সোনারগাঁওয়ে অনুমোদন না নিয়েই বিজয় মেলা
Printed Edition
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর এলাকায় কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই বিজয় মেলার আয়োজন করায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হক রুমির ছোট ভাই সুমন হক ও তার ভাতিজা আকাশ হক নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই অবৈধ মেলার আয়োজন করেছেন। বিজয় মেলার আড়ালে সেখানে মাদক ব্যবসা, জুয়া ও অশ্লীল নৃত্যসহ নানা বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে একটি বালুর মাঠে গত শুক্রবার বিকেল থেকে মাসব্যাপী এই তথাকথিত বিজয় মেলা শুরু হয়। মেলায় নাগরদোলা, ইলেকট্রিক নৌকা, পুতুল নাচ, খেলনার দোকান, কসমেটিক্স, মুড়ি-মুড়কি ও ফুচকার দোকানসহ শতাধিক দোকানপাট বসানো হয়েছে। প্রতিদিন এসব দোকান থেকে ৫০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এ ছাড়া নাগরদোলা ও ইলেকট্রিক নৌকা থেকে এককালীন ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মেলার ভেতরে লটারির নামে জুয়ার আসর বসানো হয়েছে এবং প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রি হচ্ছে। এতে জুয়াড়ি, মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত গান-বাজনা চলায় আশপাশের এলাকায় শব্দদূষণ বাড়ছে এবং নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মেলার ব্যবস্থাপক মিঠু মিয়া জানান, তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে দোকান সংগ্রহ করে এনেছেন। তবে মেলার জায়গা দিয়েছেন সুমন হক ও তার ভাতিজা আকাশ হক। এ বিষয়ে তাদের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি। মেলার আয়োজক সুমন হক দাবি করেন, মেলার অনুমোদনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছে এবং থানাকেও অবগত করা হয়েছে। যদিও জেলা প্রশাসনের কোনো অনুমতি এখনো পাওয়া যায়নি। অনুমতি ছাড়া মেলা কিভাবে চলছে? এ প্রশ্নে তিনি সরাসরি দেখা করার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হক রুমি বলেন, তিনি নিজেই এ অবৈধ মেলা বন্ধের জন্য ইউএনও কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছেন। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় এ ধরনের মেলা অনুচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল হাসান খান জানান, মেলার কোনো অনুমোদন দেয়া হয়নি এবং আয়োজকদের মেলা বসাতে নিষেধ করা হয়েছে। নিষেধ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, অনুমোদন ছাড়া কোনো মেলা বসানোর সুযোগ নেই এবং অবৈধ মেলাটি দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।