হাসিনা আমলের ১৬ মন্ত্রী ট্রাইব্যুনালে, ৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

শেখ হাসিনা সরকারের আমলের ১৬ সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাদের বিরুদ্ধে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গতকাল সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ সিদ্ধান্ত দেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে আরো দুই মাস সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। একইসাথে শুনানির জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।

সকাল পৌনে ১০টায় কেরানীগঞ্জ, কাশিমপুরসহ বিভিন্ন কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় ১৬ জনকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। অসুস্থতার কারণে সাবেক এমপি ফারুক খানকে হাজির করা হয়নি।

হাজির হওয়া আসামিরা হলেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক এমপি সোলাইমান সেলিম, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী, সালমান এফ রহমান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।

ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনকে আসামি করা এ মামলায় ১৭ জন গ্রেফতার রয়েছেন। চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হওয়ায় তাদের অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে।

আলাদা অভিযোগ ও অগ্রগতি : সালমান, আনিসুল, ইনু ও পলকের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন আলাদা ফরমাল চার্জ দাখিল করেছে। ইনুর মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। কারফিউ দিয়ে ছাত্র-জনতা হত্যার অভিযোগে আনিসুল ও সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে ১০ ডিসেম্বর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়া হয়েছে। জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও যুবলীগ সভাপতিসহ সাতজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়েছে। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দেয়া হবে।