বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধ ও সিন্ডিকেট ভাঙতে লড়াই চলবে : জামায়াত আমির
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের কারণে পাইকার, খুচরা বিক্রেতা এবং ভোক্তা কেউই ন্যায্যমূল্যে কেনাবেচা করতে পারছেন না। বিশাল একটি অংশ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে। এই সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি ভাঙতে লড়াই শুরু হয়েছে, এই লড়াই চলবে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে আমাদের প্রতিবাদ ও দাবি অব্যাহত থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টায় মিরপুর-১ শাহ আলী কাঁচাবাজার পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, সংসদের শেষ অধিবেশনেও বলেছি- ৩০০ জন সংসদ সদস্য একযোগে যদি বলেন চাঁদাবাজি চলবে না, তাহলে তা বন্ধ করা সম্ভব। বাজার আগে থেকেই অস্থির ছিল, এখন আরো বেশি অস্থির। নীরবে চাঁদাবাজি হচ্ছে, কারা করছে সবাই জানে; কিন্তু কেউ মুখ খুলতে পারছেন না। স্বল্প আয়ের মানুষের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিদর্শনকালে এক পাইকারি ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে নির্ধারিত দোকানের ভাড়া মাত্র ৫ হাজার টাকা হলেও বাস্তবে ঘরের মালিককে দিতে হচ্ছে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। আইনত ১৩ টাকা বর্গফুট হিসেবে ভাড়া নেয়ার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। তিনি আরো জানান, গত সরকারের আমলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা দোকান পাননি, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা পেয়েছেন এবং তারা এখনো সেখানে বহাল আছেন। ডিসি অফিসে গিয়েও এর সমাধান মেলেনি।
ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত আমির বলেন, দোকান ভাড়া ও চাঁদাবাজিতে বিশাল অর্থ চলে যাওয়ার কারণেই দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায় এবং ঘানি টানতে হয় সাধারণ মানুষকে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনজীবনের সমস্যাগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও জনমানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাজার পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো: মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো: মাহফুজুর রহমানসহ আরো অনেক নেতাকর্মী।