বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটি অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি

Printed Edition
3rd-6
বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটি অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুরআনের আলো বিস্তার, আলোকিত সমাজ গঠন এবং শিক্ষা ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯ বিশিষ্ট গুণী ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটি অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ দেয়া হয়েছে।

গতকাল বিকেলে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনস্থ বিয়াম অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘বার্ষিক প্রতিনিধি সম্মেলন ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬’এ তাদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেয়া হয়।

বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটির সভাপতি মাওলানা আবদুস শহীদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মেজর জেনারেল (অব:) মাহবুব উল আলম। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন সোসাইটির সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান এবং সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি আরশাদ মঞ্জুর চৌধুরী।

এ বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মনোনীত ৯ জন মনীষীকে সম্মাননা স্মারক ও পত্র দেয়া হয়। তারা হলেন- ইসলামী শিক্ষা ও উলামা ঐক্যে মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক, শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ সেবায় প্রফেসর মাহবুব আহমদ, মানব কল্যাণে অধ্যাপক আবু নাছের মোহাম্মদ আবদুজ জাহের, মহিলাদের মাঝে দীনি দাওয়াত বিস্তারে প্রফেসর ড. শামীমা তাসনিম এবং জুলাই বিপ্লব ২০২৪-এ বিশেষ অবদানের জন্য জনাব নাহিদ ইসলাম এমপি।

এ ছাড়া মরণোত্তর সম্মাননা দেয়া হয় আদর্শ প্রশাসক হিসেবে শাহ আবদুল হান্নান ও এ জেড এম শামসুল আলমকে, কুরআন ও দ্বীন প্রচারে মুহাম্মাদ নূরুল ইসলামকে এবং কুরআনের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এয়ার কমোডর ড. সৈয়দ জিলানী মাহবুবুর রহমানকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর জেনারেল (অব:) মাহবুব উল আলম বলেন, একটি জাতির প্রকৃত শক্তি শুধু অর্থনৈতিক বা সামরিক সক্ষমতায় নয়, বরং নৈতিকতা ও আদর্শিক ভিত্তির ওপর নির্ভরশীল। কুরআনের শিক্ষা মানুষকে সততা ও শৃঙ্খলা শেখায়, যা একটি সুশাসিত সমাজ গঠনের মূল উপাদান।

প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঘরে ঘরে কুরআনের শিক্ষা পৌঁছে দেয়ার এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সৎ নেতৃত্বে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেন, বর্তমান মুসলিম উম্মাহর সঙ্কটের অন্যতম কারণ হলো অনৈক্য। পবিত্র কুরআনের আলোকে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘আল্লাহর রজ্জু’ দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে হবে। ভিন্ন ভিন্ন দল বা সংগঠনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, তবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও উম্মাহর কল্যাণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

প্রফেসর মাহবুব আহমদ তার বক্তব্যে মরণোত্তর সম্মাননাপ্রাপ্ত শাহ আবদুল হান্নান ও এ জেড এম শামসুল আলমের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, তারা শুধু সৎ কর্মকর্তাই ছিলেন না, বরং ইসলামী অর্থনীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারে তাদের পাণ্ডিত্যপূর্ণ অবদান অনস্বীকার্য। তিনি তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) মো: আব্দুল হাকিম আজিজ তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন শিক্ষায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। প্রফেসর ড. শামীমা তাসনিম মাতৃভাষায় কুরআন অনুধাবনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মাওলানা আবদুস শহীদ নাসিম সোসাইটির দীর্ঘ পথচলার ইতিহাস তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের প্রথম অংশে ৫০ জন অসচ্ছল ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তি বাবদ নগদ অর্থ ও সার্টিফিকেট দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদসহ সোসাইটির উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ইফতারের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।