বাঁক ও রেলক্রসিংয়ে ঝুঁকিপূর্ণ লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়ক, ১৫ মাসে ৩৪ প্রাণহানি

Printed Edition
bangla-2
লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের একটি বাঁকের দৃশ্য : নয়া দিগন্ত

আসাদুল ইসলাম সবুজ লালমনিরহাট

লালমনিরহাট-বুড়িমারী ১০০ কিলোমিটার মহাসড়কটি দেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত বাঁক, রেল লেভেল ক্রসিং এবং সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে গত ১৫ মাসে এই সড়কে ৬৫টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, আহত হয়েছেন অন্তত ৫৫ জন।

জেলা পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সময়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

১৯৮৮ সালে লালমনিরহাট শহরের সাথে বুড়িমারী স্থলবন্দরের সংযোগ স্থাপনের জন্য নির্মিত এই সড়কটি ১৯৮৯ সালে জাতীয় মহাসড়ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে সময়ের সাথে যানবাহনের চাপ বাড়লেও সড়কটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে সড়কটির প্রস্থ মাত্র ৫ দশমিক ৫ মিটার, যেখানে জাতীয় মান অনুযায়ী এটি হওয়া উচিত ১০ দশমিক ৩ মিটার।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ) সূত্রে জানা যায়, এই মহাসড়কে রয়েছে ৮৪টি বাঁক এবং ১১টি রেল লেভেল ক্রসিং। প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার যানবাহন, যার মধ্যে ভারী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসও রয়েছে, এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এত সংখ্যক বাঁক ও রেলক্রসিং দেশের অন্য কোনো মহাসড়কে নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ১১টি ক্রসিংয়ে গেট ও গেটম্যান থাকলেও অনেক অননুমোদিত পারাপার রয়েছে, যেখানে কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচলের কারণে এসব ক্রসিংয়ে যান চলাচল বারবার বন্ধ থাকে, ফলে তৈরি হয় যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

নাইটকোচ বাসচালক রাব্বি হোসেন বলেন, ‘সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও কার্পেটিং উঠে গেছে। এত বেশি বাঁক যে ৩০-৩৫ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালিয়েও দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন।’

ট্রাকচালক জিয়া ইসলাম জানান, সঙ্কীর্ণ সড়কে ভারী যান চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিপরীত দিক থেকে দু’টি বড় যান এলে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। পুরো পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে সাড়ে তিন ঘণ্টারও বেশি।

লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘দেশের অন্য কোনো মহাসড়কে এত বেশি বাঁক ও রেলক্রসিং নেই। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য বড় প্রকল্প প্রয়োজন। আপাতত জরুরি ভিত্তিতে সড়কের খানাখন্দ ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সড়ক প্রশস্তকরণ, বাঁক কমানো এবং রেলক্রসিং আধুনিকায়ন না করলে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে না। স্থানীয়দের দাবি, এই ‘মৃত্যুফাঁদ’ মহাসড়ককে নিরাপদ করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হোক।