প্রতারণায় হাতিয়ে নেয় ৯৮ লাখ টাকা

ইমিগ্রেশনে গিয়ে জানতে পারেন ভিসা ভুয়া

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পাওয়ার সব ধরনের নথিপত্র ওয়েবসাইটে দেয়া হতো। এই প্রক্রিয়াকে অনুসরণ করে টিআই ট্রেডিং করপোরেশন নামক একটি মানবপাচারকারী প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অ্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন জানিয়ে ব্যক্তিপ্রতি হাতিয়ে নেয় ২১ লাখ টাকা। পরে ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত তারিখে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করতে গিয়ে জানতে পারেন তাদের সব কাগজপত্র ভুয়া এবং বাংলাদেশে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনে গিয়ে তারা জানতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। পরে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল জড়িত আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেন। সোমবার আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকার উত্তরা কাওলাবাজার ও যাত্রাবাড়ী শনির আখড়া এলাকা থেকে অস্ট্রেলিয়ার জালভিসা দেয়া মানবপাচার চক্রের মূলহোতা মো: তারেকুল ইসলামসহ (৪৫) চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। বাকি গ্রেফতাররা হলেন- মো: মাইনুদ্দিন ভূইয়া (৪৮), মো: নেওয়াজ (৪৫), আবু হাসান (৪৮)।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর-১ এ রথ্যাব ৪ ব্যাটালিয়ন সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রথ্যাব ৪-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো: মাহবুব আলম। তিনি বলেন, মো: শরীফ মোল্লা ও তার ভাতিজা ওমর ফারুক, চাচাতো ভাই আবুল কালাম এবং ভাগিনা সাজ্জাদ হোসেন বিদেশ যাওয়ার জন্য গত বছরের বিভিন্ন সময়ে আসামি মো: তারেকুল ইসলামের বাসা ও অফিসে গিয়ে এশিয়া ব্যাংক টিআর গ্রুপ নামক হিসাব নম্বরে সর্বমোট ৯৪ লাখ টাকা জমা করেন। কিন্তু অনেক দিন অতিবাহিত হলেও আসামিরা তাদের বিদেশ পাঠাতে না পারায় ভুক্তভোগীরা আসামিদের অফিসে বারবার তাগাদা দেয়। একপর্যায়ে টিআই ট্রেডিং করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগীদের ভিসা ও টিকিট ইস্যু করে কিন্তু তারা অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের মাধ্যমে জানতে পারে যে ভিসা ও টিকিট দুইটাই ভুয়া। এ ছাড়াও টাকা ফেরতের কথা বললে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দেখিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয়।