তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে বক্তারা
১৫ বছরে ছাত্রশিবির কর্মীদের ন্যূনতম মানবাধিকার ছিল না
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটির অডিটোরিয়ামে ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলের মানবাধিকার লঙ্ঘন’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল কেন্দ্রীয় মানবাধিকার সম্পাদক সিফাত উল আলমের সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার সেক্রেটারি ইমদাদুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম বলেন, একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; কিন্তু বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তার বিপরীতে গুম করেছে। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল। শুধু একটি ছাত্রসংগঠনের ওপর কী নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তা ছাত্রশিবিরের দিকে তাকালে বোঝা যায়। বিগত সময়ে সরকারি দল ছাড়া বিরোধী দল ও মতের প্রায় সবারই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
প্রধান আলোচক নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, স্বাধীনতার পরপরই আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের মানবাধিকার হরণ করতে থাকে। রক্ষীবাহিনী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করেছিল। দুর্নীতি, দুঃশাসনের পর দেশকে দুর্ভিক্ষের রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল।
তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ইসলামী ছাত্রশিবির একক সংগঠন হিসেবে ৩১ শতাংশ গুমের শিকার হয়েছিল। এখনো সাতজন নেতাকর্মী গুম অবস্থায় রয়েছেন। গত ১৫ বছরে ন্যূনতম মানবাধিকার ছাত্রশিবিরের ছিল না। কোনো বিরোধী দল বা মতের মানুষের মানবাধিকার ছিল না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আব্দুল্লাহিল আমান আজমী, কর্নেল (অব:) হাসিনুর রহমান এবং গবেষক আলী আহমেদ মাবরুর।
তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে আওয়ামী শাসনামলে সংঘটিত গুম, হত্যা, বেআইনি আটক, নির্যাতনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের নথিভুক্ত চিত্র উপস্থাপন করা হয়। বক্তারা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।