আলোচনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা
দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ হরমোনজনিত রোগে ভুগছে
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ কোনো না কোনো হরমোনজনিত রোগে আক্রান্ত। অথচ বেশিরভাগ মানুষই এসব রোগ সম্পর্কে সচেতন নয়। এ চিকিৎসা কার্যক্রমে সামগ্রিক সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত হাসপাতাল অথবা এন্ড্রোক্রাইন ইনস্টিটিউট করা প্রয়োজন।
গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ও অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল এন্ড্রোক্রাইনোলজিস্ট অ্যান্ড ডায়াবেটোলজিস্ট অব বাংলাদেশ (এসেডবি) আয়োজিত সাংবাদিকদের জন্য থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা ও মুক্ত আলোচনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব কথা বলেন। আলোচনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, হরমোনজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা নীরবে মহামারির আকার ধারণ করছে। বর্তমানে দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ কোনো না কোনো হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তবে এ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতা না থাকায় অধিকাংশ মানুষই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয় না। তারা বলেন, হরমোনজনিত রোগ নীরব ঘাতক। এর কারণে স্থূলতা, দূর্বলতা, পুরুষালি ও মেয়েলি নানান সমস্যা এমনকি বন্ধ্যাত্ব ও যৌন সমস্যার নানা রোগের উপসর্গ দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও এসেডবির সভাপতি অধ্যাপক ডা: মো: ফরিদ উদ্দিন বলেন, দেশে অন্তত পাঁচ কোটি মানুষ থাইরয়েড ঝুঁঁকিতে রয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁঁকি এড়ানো সম্ভব। তিনি বলেন, হরমোনজনিত প্রায় সব রোগের চিকিৎসা বাংলাদেশে রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোনজনিত রোগের চিকিৎসা হচ্ছে। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ ঝুঁঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সচেতনতা তৈরি সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। তারা জানান, মূলত জীবনযাত্রার অনিয়ম, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবই এ সঙ্কটের প্রধান কারণ। এ ছাড়া পরিবেশগত প্রভাব যেমন প্লাস্টিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, আধুনিক প্রযুক্তির বিকিরণে হরমোনজনিত সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা: ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা: এ কে এম আমিনুল ইসলাম, রেনাটা পিএলসির হেড অব মার্কেটিং (ডার্মা পোর্টফোলিও) মো: খায়রুল ইসলাম, ডিআরইউর সহসভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো: জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ও চ্যানেল আইয়ের স্টাফ রিপোর্টার আকতার হোসেন ।
এতে উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউর দফতর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, কার্যনির্বাহী সদস্য আলী আজম, মাহফুজ সাদি, সুমন চৌধুরী ও মাজাহারুল ইসলাম। হরমোন পরীক্ষা অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেছে রেনাটা পিএলসি।