গোল মিসের খেসারতে বাংলাদেশের ড্র

ভারত ০-০ বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
Printed Edition
1st-5
ভারতের গোলপোস্টে শট নিচ্ছেন বাংলাদেশের জনি। ১৬ সেকেন্ডেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন এই ফরোয়ার্ড : বাফুফে

২০০৩ সালের পর ভারতের বিপক্ষে জয়ের কোনো রেকর্ড নেই বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের। আর ভারতের মাঠে জয়ের পূর্ব কোনো অভিজ্ঞতা নেই। কাল মেঘালয়ের শিলংয়ের জহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের শুরু থেকেই চেপে ধরে হাভিয়ার কাববেরা বাহিনী। প্রথমার্ধেই সফরকারীদের ৪ গোলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে। দুইবার গোলের সুযোগ পায় ভারতও। তবে দুই দলের গোল মিসই প্রথম ৪৫ মিনিটে গোল পেতে দেয়নি কোনো দলকে। এই চিত্র বিরতির পর। ভারতের তুলনায় চান্স বেশি পায় বাংলাদেশই। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের গোল মিসই ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১২৬ থাকাদের এবারো হারাতে ব্যর্থ ১৮৫তে থাকা হামজারা। ফলে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের ‘সি’ গ্রুপের এই ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হওয়ায় দুই দলই এক পয়েন্ট করে পেয়েছে।

২০১৯ সালে কোলকাতার মাঠে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে বাংলাদেশ সাদ উদ্দিনের গোলে লিড নিয়েছিল জেমি ডে বাহিনী। কালতো ১৬ সেকেন্ডেই ভারতীয় গোলরক্ষক ভিশাল কেইথের ভুলে গোলের খুব কাছে চলে যায় বাংলাদেশ। ফাঁকায় বল পেয়ে যান মজিবুর রহমান জনি। কিন্তু দুরুহ কোণ থেকে বল জালে না পাঠিয়ে তিনি মারেন সাইড নেটে। প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা বাংলাদেশ দল ৯ মিনিটে আবার গোলের সুযোগ পায়। এবার শাহরিয়ার ইমনের হেড লক্ষ্য মিস করে। এরপর ১২ মিনিটে আবার গোলের খুব কাছে গিয়েও হতাশায় পুড়তে লাল-সবুজধারীদের। ভারতীয় গোলরক্ষকের শট বাংলাদেশের শাকিল আহাদ তপুর গায়ে লেগে মোহাম্মদ হৃদয়ের সামনে পড়ে। ফাঁকায় বল পেয়ে হৃদয় গোলে শট নেন। গোলরক্ষক তখন অন্যত্র। তবে হৃদয়ের এই শটও গোলে যায়নি, ভারতীয় ডিফেন্ডার সুভাষিশ বোস গোল লাইন থেকে তা ক্লিয়ার করেন।

প্রতিপক্ষের উপহার দেয়া পাসের গণ্ডি পেরিয়ে ১৮ মিনিটে পরিকল্পিত আক্রমণ। এবার রাকিবের ক্রসে বক্সের ভেতর থেকে শূন্যে লাফিয়ে হেডও করেন ইমন। তবে তা ঠিকমতো মাথায় না লাগায় বাইরে যায়। বাংলাদেশ দলের এই গোল চেষ্টাগুলো থেকে রক্ষা পেয়ে ৩০ মিনিটে গোলের সুযোগ তৈরি করে ভারত। তবে লাল-সবুজদের শেষ প্রহরী মিতুল মারমার বাধায় ফারুক হাজী চৌধুরী ও উদান্দা সিংহের দুই চেষ্টা গোলে যায়নি।

৪১ মিনিটে আবার বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমীদের হতাশায় ডোবান বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলার জনি। কাউন্ডার অ্যাটাক থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে যান এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু জোরে বল টানতে গিয়ে বিপক্ষ গোলরক্ষকের গায়ে মেরে নষ্ট করেন ফের এগিয়ে নেয়ার সুযোগ। অথচ বলটি গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করলেই বল জালে যেতে পারতো।

৪৫ ও ৬১ মিনিটে গোলরক্ষক মিতুল মারমার ভুলে বাংলাদেশ গোল হজমের কাছে চলে গিয়েছিল। বাংলাদেশকে আগে বহুবার কাঁদানো সুনীল ছেত্রী ৮৪ মিনিটে অবিশ্বাসী মিস করেন। ছোট বক্সের ওপর থেকেও ঠিক মতো হেড করতে পারেননি। পরের মিনিটেই ভারতীয় কোচ তুলে নেন তাকে। ৭৪ মিনিটে রাকিবের ক্রসে বদলি ফয়সাল আহমেদ ফাহিদ বল বাইরে মারার পর ৮৮ মিনিটে তাকে হতাশ করেন ভারতীয় কিপার। রহমত মিয়ার লম্বা থ্রো থেকে বক্সে জটলা হলে বল যায় বক্সের বাইরে ফাহিমের কাছে। সেখান থেকে তার নেয়া বাম পায়ে প্রচণ্ড গতির শট ডান দিকে শরীর ফেলে রুখে দেন ভারতের গোলরক্ষক। এরপর ৯৫ মিনিটে রাকিবের ভলি বাইরে গেলে এবারো ভারতের বিপক্ষে তাদের মাঠে জেতা থেকে বঞ্চিত বাংলাদেশ।

এই ম্যাচে একাদশে ছিলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তার বদলে নেতৃত্ব পান তপু বর্মন। যদিও ২২ মিনিটে ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়তে হয় তপুকে। তখন বদলি হিসেবে নামা রহমত মিয়া পান ক্যাপ্টেন্সি।

গতকাল লাল সবুজ জার্সিতে অভিষেক হয় ইংলিশ লিগে খেলা হামজা চৌধুরীর। দুর্দান্ত খেলেছেন এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। প্রতিপক্ষের অনেক আক্রমণ নষ্ট করেছেন তিনি। বাংলাদেশের পরের ম্যাচের প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর। গতকাল ‘সি’ গ্রুপের অপর ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করেছে সিঙ্গাপুর ও হংকং।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ দলের কোচ কাবরেরা বলেন, ‘সুযোগগুলো নষ্ট হলেও বাংলাদেশ আক্রমণে ছিল। লড়াই করেছে। পরের ম্যাচে আরো শানিত হবে। সিঙ্গাপুর হংকংকে মোকাবেলা করতে হবে । সেক্ষেত্রে এগিয়ে থাকার জন্যই আমরা ট্যাকটিক্যালি এগুবো। এখনো প্রায় তিনমাস বাকি আছে। আমাদের কাজগুলোর দিকেই নজর দিব। ইন্ডিভিজুয়ালি পারফরম্যান্সের চেয়ে দলগত পারফরম্যান্সই বেটার ফল বয়ে আনবে। ভারতের মতোই শক্তিতে সিঙ্গাপুর ও হংকং।

বাংলাদেশ দল : মিতুল, তপু (রহমত ২২ মি.), হৃদয় (মো: সোহেল রানা ৭৪ মি.) মোরসালিন, হামজা, ইমন (ফাহিম ৬২ মি.) রাকিব, শাকিল আহাদ তপু, তারিক কাজী, জনি (চন্দন রায় ৬২ মি.) সাদউদ্দিন।