আওয়ামী আমলে দখল করা
চকরিয়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের শত কোটি টাকার জমিতে ভবন নির্মাণ
Printed Edition
এ এম ওমর আলী, চকরিয়া উপকূল (কক্সবাজার)
ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ আমলের (কক্সবাজার-১) সাবেক এমপি জাফরের প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে জবরদখল করা কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের শত কোটি টাকার জায়গায় নির্মাণাধীন ভবনটি এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় পার হলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা ওই জমি উদ্ধারে কোনো উদ্যোগ নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, চকরিয়া পৌরসভা ৮নং ওয়ার্ডের নামার চিরিঙ্গার বাসিন্দা ফজল করিমের ছেলে মোহাম্মদ এহেসান ওরফে দুবাই এহেসান ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রায় ১.৬০ একর জায়গাতে মার্কেটসহ কয়েকটি স্থাপনা তৈরি করেন। বিগত সময়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কয়েক দফা অভিযান চালানোর পরও পুনরায় স্থাপনা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ভবন নির্মাণ করার কারণে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রায় চার শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে মাতামুহুরী নদীর উপর নির্মিত ৬ লেইনের ব্রিজ ও এপ্রোচ সড়ক মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের ৬ লেইনের অধিগ্রহণ করা জায়গাও বেহাত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে জায়গা দখলের পর সরকারি সম্পদ উদ্ধারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। রহস্যজনক কারণে দখলবাজের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ফলে সরকারি জায়গা দখলে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে দখলবাজরা।
চকরিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, জাতীয় মহাসড়কের আওতাধীন প্রায় ৩৩২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মাতামুহুরী নদীর উপর নির্মিত ৬ লেইন বিশিষ্ট সেতু ও সেতু সংযোগ (এপ্রোচ) সড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ করেছে সরকার। ৬ লেইনের সড়ক বাস্তবায়নের জন্য মাতামুহুরী নদীর উপর ৬ লেইনের সেতু নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেতু দিয়ে যান চলাচলও শুরু করেছে। মাতামুহুরী নদীর সেতুর সামনে এপ্রোচ রোডের জন্য জমিও অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬ লেইনের মহাসড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ চলমান রয়েছে।
এ দিকে চকরিয়া পৌরসভা ৮নং ওয়ার্ডের নামার চিরিঙ্গার বাসিন্দা ফজল করিমের ছেলে মোহাম্মদ এহেসান ওরফে দুবাই এহেসান ও খুটাখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মৃত আবদুস শুক্কুরের ছেলে ডা: সোলতান সিরাজী মাতামুহুরী ব্রিজের সামনে সওজের জায়গাটি ভুয়া দলিল দেখিয়ে দখল করে নেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক এমপি জাফর আলমের ছত্রছায়ায় ভবন নির্মাণের কাজও শুরু করেন তারা। মহাসড়কের পাশে ভবন নির্মাণ না করার জন্য সওজ একাধিকবার নোটিশ দেয়া হয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারে পতন হলে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজনকে ম্যানেজ করে অর্ধশতাধিক শ্রমিক দিয়ে পুনরায় ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে এবং নির্মানকাজ পুরোদমে চালানো হচ্ছে।
এ ব্যাপারে মোহাম্মদ এহেসান ওরফে দুবাই এহেসান স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, গত ২০০৫ সালে মাতামুহুরী নদীর ব্রিজের সামনে প্রায় ১.৬০ একর জমি ক্রয় করি। মাতামুহুরী নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য আমার ক্রয় করা ২৩ শতক জমি সড়ক ও জনপথ বিভাগ অধিগ্রহণ করে। বাকি ২০ শতক জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করছি। তা ছাড়া সরকারের প্রায় ৯ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ অভিযোগ দেয়ায় টাকা উত্তোলন করতে পারছি না। আমি সরকারি জমি দখল করে থাকলে ক্ষতিপূরণের টাকা দেবে কেন সরকার- এমন প্রশ্ন করেন তিনি।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের চকরিয়া শাখার উপ-বিভাগী প্রকৌশলী রাহাত আলম জানান, বিগত সময়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে দখলবাজদের বিরুদ্ধে একাধিকবার নোটিশ দেয়া হয়েছে। কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এরপরও দখলবাজরা নতুন ভবন নির্মাণ করছেন। ইতোমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।