বিএসএফের হাতে মৃত্যু

রানীশংকৈলের আজিজুরের লাশ দেশে ফেরেনি

Printed Edition

রানীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা

সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক হওয়ার প্রায় ১১ মাস পর ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলের দিনমজুর আজিজুর রহমান (৪৬)। গত ২২ মার্চ ভারতের ইসলামপুরে তার মৃত্যুর ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও আইনি জটিলতা ও অর্থের অভাবে লাশ দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি।

নিহত আজিজুর রহমান উপজেলার শাহানাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। তার পরিবারে দুই মেয়ে ও এক মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলে রয়েছে। পরিবারটি চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছে।

পারিবারিক ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৩ মে শাহানাবাদ সীমান্তের ৩৭৩/১-এস পিলার এলাকায় ঘাস কাটতে গেলে বিএসএফের ১৮৪ আমবাড়ী ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায়। নিহতের স্ত্রী তাছকারা বেগম অভিযোগ করেন, আটকের পর তার স্বামীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দীর্ঘ সময় ভারতের কারাগার ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের দাবি, লাশ দেশে আনতে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানানো হয়েছে, যা তাদের পে জোগাড় করা অসম্ভব। নিঃস্ব পরিবারটি সরকারি সহায়তায় বিনা খরচে লাশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাছকারা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এখন লাশ আনতেও টাকা চাওয়া হচ্ছে। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, যেন দ্রুত লাশটি দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।’

ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজির আহমেদ জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। বিএসএফের সাথে যোগাযোগ করে লাশ দ্রুত ও নিয়ম অনুযায়ী দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

এ দিকে আজিজুরের লাশ শেষবারের মতো দেখার জন্য এবং নিজ গ্রামে দাফনের সুযোগ পেতে প্রশাসনের জরুরি হস্তপে কামনা করেছে তার পরিবার।