রেকর্ডের ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিক

Printed Edition
khela-1
রেকর্ডের ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিক

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ১০ হ্যাটট্রিক

  • ১৬ জুন, ২০২৬ : বনাম আলজেরিয়া (বিশ্বকাপ) ৩-০ ব্যবধানে জয়ী
  • ২৮ মার্চ, ২০২২ : বনাম ভেনিজুয়েলা (বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব) ৩-০ ব্যবধানে জয়ী
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ : বনাম বলিভিয়া (বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব) ৩-০ ব্যবধানে জয়ী
  • ২৯ মে, ২০১৮ : বনাম হাইতি (আন্তর্জাতিক প্রীতিম্যাচ) ৪-০ ব্যবধানে জয়ী
  • ১০ অক্টোবর, ২০১৭ : বনাম ইকুয়েডর (বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব) ৩-১ ব্যবধানে জয়ী
  • ২৮ মার্চ, ২০১৭ : বনাম পানামা (কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিও) ৫-০ ব্যবধানে জয়ী
  • ১৪ জুন, ২০১৪ : বনাম গুয়াতেমালা (আন্তর্জাতিক প্রীতিম্যাচ) ৪-০ ব্যবধানে জয়ী
  • ৯ জুন, ২০১২ : বনাম ব্রাজিল (আন্তর্জাতিক প্রীতিম্যাচ) ৪-৩ ব্যবধানে জয়ী
  • ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ : বনাম সুইজারল্যান্ড (আন্তর্জাতিক প্রীতিম্যাচ) ৩-১ ব্যবধানে জয়ী
  • ১৬ জুন, ২০১২ : বনাম বলিভিয়া (বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব) ৭-০ ব্যবধানে জয়ী।

রফিকুল হায়দার ফরহাদ

নিউ ইয়র্ক থেকে

বলতে গেলে ফুটবল থেকে আর কিছুই পাওয়া বাকি ছিল না লিওনেল মেসির। ক্লাব ফুটবলে সব শিরোপা, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে কোপা আমেরিকা, কোপা ফিনালেসিম এবং সর্বশেষ ২০২২ বিশ্বকাপ জয়। তবে মনের মধ্যে তার একটি অপূর্নতা থেকেই গিিেয়ছল। মুখ ফুটে কাউকে তা বলেননি। তবে বিশ্বকাপ এলেই সবাই বলবলি করত বিশ্বকাপে তো হ্যাটট্রিক নেই মেসির। অবশেষ সেই হ্যাটট্রিক তিনি পেলেন। আর তা তার রেকর্ড গড়া ম্যাচে। কাতার বিশ্বকাপের পরপরই মেসি বলেছিলেন তিনি আর জাতীয় দলে ফিরবেন না। ভক্তদের চাপ এবং আর্জেন্টিনা দলের প্রয়োজনে তিনি আবার ফিরে এলেন। এই ফিরে আসাতেই তার পক্ষে টানা ছয় বিশ্বকাপে খেলার রাস্তা তৈরি হলো। গতকাল আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার সাথে সাথেই হয়ে গেলেন টানা ছয় বিশ্বকাপে খেলা প্রথম ফুটবলার। এরপর ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের মঞ্চে এই আক্ষেপও দূর করলেন। সে সাথে স্পর্শ করলেন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজের সাথে তিনি এখন সর্বোচ্চ ১৬ গোলের মালিক। আর একটি গোল করতে পারলেই একক কৃতিত্বের মালিক হবেন ফুটবলের জীবন্ত এই কিংবদন্তি।

সেই ২০০৬ সাল থেকে বিশ্বকাপে উপস্থিতি আর্জেন্টিনার রোজারিওতে জন্ম নেয়া ফুটবল জাদুকরের। প্রথম বিশ্বকাপেই তার গোল সার্বিয়ার বিপক্ষে। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে কোনো গোল পাননি। এরপর ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে ৪ গোল। রাশিয়া বিশ্বকাপে ১ গোল এবং কাতারের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে ৭ গোল। এই ১৬ গোল নিয়েই মেসি এখন মিরোস্লাভ ক্লোজের সমকক্ষ। কাল কানসাসের মাঠে মেসির এই গোল উৎসবের ঝড়টা গেছে লুকা জিদানের ওপর দিয়ে। ছেলের এই গোল হজমের দৃশ্য গ্যালারিতে বসে দেখেছেন বাবা জিনেদিন জিদান; যার কৃতিত্বে ১৯৯৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স।

নিশ্চিত এটিই শেষ বিশ্বকাপ মেসির। বয়স কোনোভাবেই তাকে ২০৩০ বিশ্বকাপে মাঠে নামতে দেবে না। সমাপ্তির এই ফুটবলের সর্ব বৃহৎ আসরে মেসি আর্জেন্টিনাকে কত দূর নিয়ে যেতে পারেন তা সময়ই বলে দেবে। তবে মেসি এবং আর্জেন্টিনার যে দুর্দান্ত শুরু তা আশা-প্রত্যাশা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে সমর্থকদের মনে। চ্যাম্পিয়নদের এমনই তো শুরু হতে হয়।

আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে হ্যাটট্রিক করেছেন। প্রীতিম্যাচে তিন গোল পেয়েছেন। কোপা আমেরিকাতেও তার হ্যাটট্রিক আছে। এত দিন সাদা-আকাশি নীল জার্সিতে তার হ্যাটট্রিক ছিল ৯টি। কিন্তু বিশ্বকাপে এত দিন দুই গোলের বেশি পাননি। সেই অধরা হ্যাটট্রিকই ধরা দিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস স্টেডিয়ামে। সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে আদায় করলেন ১০ হ্যাটট্রিক।

আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া। ২০১৪ বিশ্বকাপে তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা দল। এবার তারা তিনবারের বিশ্বকাপ জয়ীদের বিপক্ষে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে দেবে, ক্যামেরুনের মতো অঘটন ঘটাবে এই ছিল সবার প্রত্যাশা। অথচ ইন্টার মিয়ামির তারকা ফুটবলারটির বাম পায়ের জাদুর কাছে পাত্তাই পেল না তারা।

১৭ মিনিটে মেসি বাম পায়ের দূর পাল্লার শটে প্রথম পরাস্ত করেন লুকা জিদানকে। রদ্রিগো ডি পলে কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাম পায়ের তীব্র শটে গোল করেন সাবেক বার্সেলোনার এই তারকা। লুকা জিদান বাম দিকে শরীর ভাসিয়েও কিছু করতে পারেননি। বল তার হাতের বাধা ডিঙ্গিয়ে চলে যায় জালে। ৬০ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের মাটিঘেঁষা হালকা সুইং করা শট বোকা বানায় আলজেরিয়ার গোলরক্ষককে। বল তার হাঁটুতে লেগে সামনে আসে। মেসি ছুটে গিয়ে ডান পায়ের প্লেসিং শটে গোল লাইন অতিক্রম করান বল।

তখনই ভাষ্যকাররা বলাবলি করছিলেন এবার কি বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা পাবেন মেসি। এর আগেও কয়েক দফা তার হ্যাটট্রিক মিস হয়েছিল। ২০১৪ সালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ২ গোল করেও তৃতীয় গোলের দেখা পাননি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে দু’বার বল জালে পাঠালেও হ্যাটট্রিক করা হয়নি। এবার যুক্তরাষ্ট্রের মাঠ আর হতাশ করেনি তাকে। ৭৬ মিনিটে নিকো গঞ্জালেসের পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের ঠিক পর থেকে বাম পায়ের শটে পূরণ করেন স্বপ্নের হ্যাটট্রিক। এর আগে তার আরেকটি শট রুখে দিয়েছেলেন লুকা জিদান। ফলে আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০তম ম্যাচে ১২০ গোলের মালিকও হয়ে গেলেন মেসি। একজন বরেণ্য ফুটবলারের কাছে ফুটবল ভক্তদের যা কিছু চাওয়া সবই দিয়ে যাচ্ছেন তিন ছেলেসন্তানের এই বাবা। হয়তো গতকাল তাকে একটু চাপেই ফেলে দিয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৬ গোল থেকে দুই গোল পেছনে চলে আসেন ফরাসি তারকা। সেখানে মেসি তখনো তিন গোল দূরে। ফলে এই হ্যাটট্রিক তাকে ১৬তেই নিয়ে ঠেকিয়েছে।

২০২৫ সালে বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পাওয়া এই ফুটবলার এখন পর্যন্ত করেছেন সব মিলে ৯১০ গোল।