আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি

Printed Edition
agdum kobita
আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি

যুদ্ধ মানে

এইচ এস সরোয়ারদী

যুদ্ধে কোনো শান্তি নেই

শুধুই আহাজারি

যুদ্ধ মানে রক্তে ভেজা

লাশের সারি সারি।

যুদ্ধ মানে কি আতঙ্কে

থাকে না ঘুম চোখে

যুদ্ধ মানে মায়ের কান্না

ছেলে হারানোর শোকে।

যুদ্ধ মানে বারুদ থেকে

সব পুড়ে হয় ছাই

যুদ্ধ মানে শুধুই ধ্বংস

নাইরে শান্তি নাই।


নদীর ধারে খোকা

মাহমুদুজ্জামান জামী

কে বলে রে কাজ নাই?

বসে বসে শুধু খায়!

এই বসে তো এই উঠে যায়

দৌড়ে বেড়ায় পুরো ঘরটায়।

সকাল-বিকাল বিজি থাকে

এটা ওটা করতে থাকে

আঁকাটা তার শেষ না হতেই

উঠে পড়ে খেলনা হাতেই।

কখনো খোকা নদীর ধারে

বসে থাকে ঘাসের ভিড়ে,

আকাশ বাতাস নৌকা নদী

খোকাকে একটু ডাকত যদি!

খোকার ভীষণ ইছে করে

পুরো নদী বেড়ায় ঘুরে

পারত যদি ওই পারে

দেখত মানুষ কী করে!


মুক্তিসেনা

আবুল কালাম তালুকদার

আমার দেশের মুক্তি সেনা

আনল স্বাধীনতা

শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি

আমরা তাদের কথা।

অস্ত্র কাঁধে নিয়ে তারা

রাখল জীবন বাজি-

দেশের জন্য যুদ্ধ করে

শহীদ হলো গাজী।

তাদের দানে বিজয় নিশান

উড়ছে সবুজ লালে-

এমন কথা বলছে পাখি

কৃষ্ণচুড়ার ডালে।


প্রাণের স্বাধীনতা

শামীম খান যুবরাজ

কিশোরবেলা; ডুবসাঁতারে মত্ত থাকা দুপুর

আচার চুরি, উধাও মুড়ি, মোয়ার বয়াম উপুড়

ছুটোছুটি-লুটোপুটি, লাগাম ছাড়া কথা

এরই মাঝে লুকিয়ে আছে প্রাণের স্বাধীনতা।

চড়–ইভাতির ভাতের হাঁড়ি ধোঁয়া ওঠার ঘ্রাণ

এক নিমেষে লাফিয়ে ওঠা ছোট্ট কিশোর প্রাণ

লকলকিয়ে বেড়ে ওঠা কুমড়ো গাছের লতা

এরই মাঝে যায় দেখা যায় প্রাণের স্বাধীনতা।

ভাষার মাসে শোকের মিছিল, চতুর্দিকে কালো-

ব্যাজ পরা লোক; শোকগাঁথায় উদ্ভাসিত আলো

পিচঢালা পথ কেঁপে ওঠা, মুষ্টিবদ্ধ হাত

স্বাধীনতা স্বাধীনতা জাগায় সুপ্রভাত।


বিয়ে বাড়ির পথে

মুহাম্মদ রফিক ইসলাম

ময়না পাখি মিষ্টি নিয়ে

টিয়ের বাড়ি যায়

পথে যেতে বউ কথা কও

পাখির দেখা পায়।

বউ কথা কও বলে এবার

সখি কোথায় যাও?

ময়না বলে সখির বিয়ে

পরানতলি গাঁও।

হেসে বলে বউ কথা কও

পরানতলির বাঁয়

থাকি আমি পাহাড়তলি

অজপাড়া গাঁয়।

বর-কনে আর তোমায় কিন্তু

দাওয়াত দিয়ে যাই

ময়না বলে ফেরার পথে

যদি সময় পাই।


চৈত্রের আগুন

জাহেদুল ইসলাম বাঁধন

গাঁও জুড়ে দাউদাউ

চৈত্রের আগুনে

মন তুমি যাও যার

বুক ভরা ফাগুনে।

কাঠফাটা রোদ্দুর

খাঁ খাঁ জ্বলছে

হাউমাউ বিল-ঝিল

মহা খরা চলছে।

গলছে-রে গলছে-রে

গা ভিজে চুপচুপ

ঝুরঝুরে ঘাম ঝরে

বুক করে ধুপধুপ।


খোকার স্বাধীনতা

রওশন মতিন

খেলার মাঠে খুব দুরন্ত সেই যে খোকা

ক্লাসের পড়ায় খুব মেধাবী-বইয়ের পোকা

এই নদী-মাঠ ধলেশ্বরীর ঢেউয়ের দোলায়

হাতি-ঘোড়া, শোলার মুকুট নাগর দোলায়

যেতে যেতে, স্লোগান মুখর রাজপথে সে থামে

ডাক পেলো সে লাল-সবুজের স্বাধীনতার খামে।

মুক্ত স্বদেশ -বিজয় এলো দৃপ্ত পায়ে হার না মানায়

সে-ই খোকাটার স্বাধীনতা উড়ছে যেন মুক্ত ডানায়।