জালিয়াতির অভিযোগের মাঝেই নিয়োগ ও ইনডাকশন ট্রেনিং : প্রশ্নের মুখে ব্রির নিয়োগ প্রক্রিয়া

Printed Edition

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

একের পর এক নিয়োগ জালিয়াতির ঘটনায় যখন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) তীব্র সমালোচনার মুখে, ঠিক তখনই প্রকাশ্যে এসেছে, সম্প্রতি ১৮টি পদে মোট ৩২ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নব যোগদানকৃত ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের ইনডাকশন ট্রেনিং অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহস্পতিবার ব্রির প্রশিণ বিভাগের সভাক।ে

প্রশিণের উদ্বোধন করেন ব্রির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান। অনুষ্ঠানে গবেষণা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং নবাগতদের স্বাগত জানান। পরে তারা বিভিন্ন বিভাগ, শাখা ও গবেষণাগার পরিদর্শন করেন।

তবে এ আনুষ্ঠানিক আয়োজনের আড়ালেই ঘনীভূত হচ্ছে বিতর্ক। কারণ, একই নিয়োগ প্রক্রিয়ার আওতায় অন্তত দু’টি পদ ‘প্লাম্বার’ ও ‘পাম্প অপারেটর’ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পরীায় অংশ না নিয়েও প্রার্থী নিয়োগপত্র পেয়েছেন, ভুয়া এডমিট কার্ড ব্যবহার করা হয়েছে এবং সঙ্ঘবদ্ধ চক্র অর্থের বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ১৮টি পদে ৩২ জনের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া কি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে? দু’টি পদে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর একই প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া অন্যদের েেত্রও কি পুনঃমূল্যায়ন হয়েছে?

যোগাযোগ করা হলে ব্রির মহাপরিচালক ড. খালেকুজ্জামান বলেন, আমরা তো পুলিশে দিয়েছি। আর সব পুনরায় যাচাই করা হয়েছে।

মহাপরিচালকের এমন বক্তব্যের পরও সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, পুনঃযাচাইয়ের প্রক্রিয়া, মানদণ্ড এবং ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হলে জনমনে আস্থা আরো জোরদার হবে। তারা মনে করছেন, নিয়োগপ্রাপ্ত ৩২ জনের পরীায় অংশগ্রহণের রেকর্ড, মেধাতালিকা ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা সময়ের দাবি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলমান রয়েছে। একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা এখন সেটিই দেখার বিষয়।