ডুমুরিয়ায় উঠান বৈঠক
চাঁদাবাজ ও দখলদারদের হাতে ক্ষমতা দিলে দেশ নিরাপদ থাকবে না : গোলাম পরওয়ার
Printed Edition
ডুমুরিয়া (খুলনা) সংবাদদাতা
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজ রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, যারা চাঁদাবাজি, ঘের ও জমি দখল, সন্ত্রাস ও লুটপাটে জড়িত, তাদের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গেলে সাধারণ মানুষ ও সংখ্যালঘুদের জানমাল নিরাপদ থাকবে না। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যারা চাঁদাবাজি ও দখলদারিতে লিপ্ত ছিল, তারা কোন দলের লোক- এই প্রশ্নের উত্তর জনগণের জানা দরকার। চাঁদা না দেয়ায় মানুষকে পাথর মেরে হত্যার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।
শনিবার সকালে খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় খুলনা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জামায়াত নেতারা এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরের ইতিহাসে লাঙল, নৌকা, ধানের শীষসহ সব প্রতীকের দল এবং সামরিক শাসনও দেশ পরিচালনা করেছে, কিন্তু কেউই দুর্নীতি ও জুলুমমুক্ত শাসনের দাবি করতে পারেনি। প্রতিটি আমলেই দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের সংসদ সদস্য হিসেবে সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডুমুরিয়া তখন ভয়াবহ সন্ত্রাসকবলিত ছিল। সন্ধ্যার আগে মানুষ ঘরে ঢুকে পড়ত। তিনি সন্ত্রাস দমন ও শতভাগ স্বচ্ছ উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছিলেন। এমপি থাকাকালে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছেন এবং কোনো কাজের বিনিময়ে এক টাকাও নেননি বলে দাবি করেন। ইউনিয়ন ও খাতভিত্তিক উন্নয়ন কাজের হিসাব বই আকারে প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি অভিযোগ করেন, আবারো দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতায় ফেরানোর ষড়যন্ত্র চলছে। এমপি বানিয়ে কেউ ঢাকায় বা লন্ডনে থাকবেন, আর এলাকায় তার লোকজন চাঁদাবাজি ও দখল চালাবে- এমন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন তিনি। এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, আদালতে সাজা ও হাওয়া ভবনের সংশ্লিষ্টতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সন্ত্রাস দমনে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, যৌথ বাহিনী গঠন করে বহু সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিরীহ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রশাসনের মাধ্যমে সহায়তার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান। তিনি বলেন, সাড়ে সাত বছর কারাবন্দী থাকায় একাধিক নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
শেষে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিবেক দিয়ে বিচার করে দুর্নীতিমুক্ত ও সন্ত্রাস দমনকারী প্রার্থীকে ভোট দিন। চাঁদাবাজ ও দখলদারদের হাতে আর ক্ষমতা দেয়া যাবে না। এ সময় তার সাথে ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা আমির মাওলানা মোক্তার হোসেন, উপজেলা নায়েবে আমির গাজী সাইফুল্লাহ ও মাওলানা হাবিবুর রহমান, উপজেলা হিন্দু কমিটির সেক্রেটারি অধ্যক্ষ দেব প্রসাদ মন্ডল, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী গবেষণা সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, ডুমুরিয়া পশ্চিম ছাত্রশিবিরের সভাপতি হামিদুল হাসান লিমন, মাগুরখালী হিন্দু কমিটির সেক্রেটারি বিকানন্দ বৈরাগী প্রমুখ। তিনি অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া খর্ণিয়া ইউনিয়নের আঙ্গারদহা কৃষ্ণ কুণ্ডু, রাজু ও গপি কুণ্ডুর বাড়িতে যান এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।