মোহামেডান আবাহনী গাজী গ্রুপের জয়
Printed Edition
ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেটে তাসকিন আহমেদের ফেরার ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে মোহামেডান। প্রথম ম্যাচে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে হারের পর গতকাল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে হারিয়ে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিয়েছে তারা। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে মোহামেডান সংগ্রহ পায় ২৫৩ রান। জবাবে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদের বোলিংয়ে ১৫৯ রানেই থেমে যায় রূপগঞ্জের ইনিংস। রূপগঞ্জের বিপক্ষে ৯৪ রানের জয়ে টেবিলের তিনে উঠেছে মোহামেডান।
দিনের অন্য ম্যাচে এ দিন আবার হারল প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। এ দিন প্রাইম ব্যাংকের বোলাদের দারুণ বোলিংয়ে ১৮৩ রানেই অলআউট হয় গাজী গ্রুপ। কিন্তু এই অল্প রানকে গাজী গ্রুপের বোলাররা বিশাল বানিয়ে ফেলে। ফলে মাত্র ৮৯ রানে অলআউট প্রতিপক্ষ। এতে ৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হার প্রাইম ব্যাংকের।
অপর ম্যাচে মুমিনুল হকের ৯২ রানের সুবাদে ৮ উইকেটে ৩১০ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে আবাহনী। জবাবে ব্রাদার্স ইউনিয়ন সাত উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে থামে ২৩০ রানে। ৮০ রানে ম্যাচ জিতে পাঁচ ম্যাচ শেষে চার জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের টপে অবস্থান করছে আবাহনী। সমান ম্যাচে সমান জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে নেট রান রেটে পিছিয়ে থেকে দুইয়ে গাজী গ্রুপ। সমান পয়েন্ট নিয়ে তিনে অবস্থান মোহামেডানের।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনিং জুটিতে তামিম ইকবাল ও রনি তালুকদার তুলেন ৪৮ রান। ২৮ রানে বিদায় নেন প্রথমে তামিম। এরপর রনি আউট হন ৩৬ রানে। তৃতীয় উইকটে মাহেদুল ইসলাম অঙ্কন ও তৌহিদ হৃদয় ৬৩ রানের জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। ৪২ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন অঙ্কন। মাঝে মুশফিকুর রহীম (১) ও আরিফুল ইসলাম (১৫) দ্রুত আউট হন। দলের হয়ে ৭৬ বলে তিন চার ও দুই ছক্কায় ৬৬ রানের ইনিংস খেলেন তৌহিদ। এ ছাড়া মিরাজ ২৫, সাইফউদ্দিন অপরাজিত থাকেন ১৯ রানে। শরিফুল ইসলাম চারটি, তানজিম হাসান সাকিব দু’টি উইকেট নেন।
মাঝারি মানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে রূপগঞ্জের ওপেনার তানজিম হাসান তামিম (১১) দ্বিতীয় ওভারেই মিরাজের শিকার। পঞ্চম ওভারে তাসকিনের বলে ফেরেন সৌম্য সরকার (০)। তাজুলের বলে এরপর ফেরেন সাইফও (১১)। ৫৭ রানে ছয় উইকেট হারানোর পর জাকের আলী অনিক ও শেখ মাহেদী হাসান ৫৮ রানের জুটিতে কিছুটা চাপে পড়েছিল মোহামেডান। এরপর ২৫ রানে জাকের আলী ও তাসকিনের তৃতীয় শিকার হয়ে মেহেদী ৪৬ রানে সাজঘরে ফিরলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় মোহামেডান। এরপর ৩৭.২ ওভারে অলআউট হয় রূপগঞ্জ। চার উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন মিরাজ। তাসকিন নেন তিনটি উইকেট।
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ৪৩.৪ ওভারে ১৮৩ রান অলআউট হয়। এনামুল হক বিজয় ৪৮ ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের ৩৫ রানের ইনিংস ছিল উল্লেখ করার মতো। আরাফাত ও নাহিদুল তিনটি উইকেট নেন।
১৮৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম ওভারেই বিপদে পড়ে প্রাইম ব্যাংক। আবু হাসিম, লিয়ন ইসলাম ও শেখ পারভেজ জীবনের ঘূর্ণিতে ২৩.২ ওভারে শেষ পর্যন্ত ৮৯ রানে অলআউট হয় তারা। হাসিম তিনটি, লিয়ন ও পারভেজ দু’টি করে উইকেট নেন।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে মুমিনুল হক ও মোহাম্মদ মিঠুনের ১৪৩ রানের জুটিতে ৩১১ রানের লক্ষ্য দেয় আবাহনী। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ৯২ রানে আউট হন মুমিনুল। এ ছাড়া ৭১ রানে আউট হন মিঠুন।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় খেলতে নেমে ২৯ রানে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে ব্রাদার্স। সর্বোচ্চ ৮৪ রান আসে মাইশুকুরের ব্যাট থেকে। সবমিলিয়ে ২৩০ রানে থামে ব্রাদার্সের ইনিংস। আবাহনীর বোলরাদের মধ্যে মোসাদ্দেক হোসেন ও শেখ মেহরাব হোসেন নেন দু’টি করে উইকেট।