মিঠাপুকুরে উন্নয়ন প্রকল্প ও টিসিবির কার্ড বিতরণে অনিয়ম

১৫০ থেকে ১৭৫ টাকা করে ‘ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন ফান্ডে জমা’ দেয়ার নামে চাঁদা আদায় করা হয়েছে

Printed Edition

শাহীন মণ্ডল মিঠাপুকুর (রংপুর)

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ৮ নম্বর চেংমারী ইউনিয়নে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তীর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম এবং ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শাহনেওয়াজের দিকে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের অর্থ দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের সময় প্রশাসক মমিনুল ইসলাম ৭৭ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন। অবশিষ্ট অর্থ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সদস্যাদের মধ্যে প্রকল্প বরাদ্দের নামে ভাগ করে দেয়া হয়। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি আরো আলোচনায় আসে।

ইউপি সদস্যা পেয়ারী বেগম ও সদস্য আবু রায়হান অভিযোগ করেন, প্রশাসক বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের নামে এক লাখ ৪৬ হাজার টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। কিন্তু প্রকল্পের অর্থ দিয়ে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাত্র আট সেট করে মোট ৩২ সেট নিম্নমানের বেঞ্চ সরবরাহ করা হয়। প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় কম মানের সামগ্রী দিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

এ ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বরাদ্দ এবং ইউপি সদস্যদের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প বণ্টনের সময় মোটা অঙ্কের উৎকোচ নেয়া হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি সদস্য ও সদস্যা অভিযোগ করেন। এমনকি প্রশাসকের নির্দেশে একই মসজিদে আলাদাভাবে দু’টি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে একটি প্রকল্পের অর্থ দিয়ে দায়সারা কাজ দেখিয়ে উভয় প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগও উঠেছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে টিসিবির কার্ড বিতরণ নিয়ে। সরকারিভাবে বিনামূল্যে বিতরণের কথা থাকলেও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ১৫০ থেকে ১৭৫ টাকা করে ‘ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন ফান্ডে জমা’ দেয়ার নামে চাঁদা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, এভাবে লক্ষাধিক টাকা আদায় করা হয়েছে।

টিসিবি কার্ডধারী গিলাঝুকি গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে বুলু মিয়া ও আরিফুর রহমান জানান, ইউনিয়ন পরিষদে ১৭৫ টাকা জমা দেয়ার নামে রশিদ দিয়ে টাকা নেয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কার্ড দেয়া হবে না বলে হুমকি দেয়া হয়। ধোপাকোল গ্রামের মনোয়ার রহমান ও রামনাথপুর গ্রামের সালমা বেগমসহ আরো অনেক ভুক্তভোগী একই অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে ইউপি সচিব শাহনেওয়াজ বলেন, তিনি কোনো টাকা আদায় করেননি, টাকা তুলেছেন সহকারী হিসাবরক্ষক রজ্জব আলী। তবে রজ্জব আলী দাবি করেন, প্রশাসক ও ইউপি সচিবের নির্দেশেই তিনি টাকা তুলেছেন এবং তাদের আদেশের বাইরে কিছু করেননি।

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, শুরুতে রশিদমূল্যে টাকা নিতে বলা হলেও পরে তিনি তা নিষেধ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ জানান, টিসিবি কার্ডের জন্য টাকা নেয়ার কোনো বিধান নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইন ব্যবস্থা নেয়া হবে।