বিতর্কিত নির্বাচন প্রক্রিয়ার অভিযোগ বিএনপির
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
নানা উপায়ে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।
কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন গতকাল সন্ধ্যায় গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের ওপরে দাঁড়িয়ে আমরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছি। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এ নির্বাচনে জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটবে, একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের মাধ্যমে প্রতিটি রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে, এটিই জনগণের প্রত্যাশা। তবে গত কয়েকদিন ধরে আমরা দুঃখজনকভাবে দেখছি নানা উপায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করা হচ্ছে, একটি বিতর্কিত নির্বাচন প্রক্রিয়া সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।
মাহদী আমিন অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য ধর্মীয় অনুভূতির ক্রমাগত অপব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে। ভোট দিতে পবিত্র কুরআন ছুঁয়ে শপথ করানো হচ্ছে, যা সরাসরি নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন। শুধু তাই নয়, আমরা দেখেছি সেই বিশেষ রাজনৈতিক দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করছে, যার পেছনে অসাধু উদ্দেশ্য রয়েছে। সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বেশকিছু দেশে যেমন বাহরাইন, ওমান, কুয়েত ও সৌদি আরবে শত শত ব্যালট একটি নির্দিষ্ট দলের কর্মীদের কাছে রয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ সঙ্ঘবদ্ধ ভোট সম্পূর্ণ বেআইনি। কোথাও কোথাও একজনের নাম্বার দিয়ে আরেকজনের পোস্টাল ব্যালট পেপার সংগ্রহ করা হচ্ছে, যেটি অনাকাক্সিত।
তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালটের েেত্র ধানের শীষের অবস্থান নিচের দিকে, যা সহজে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ভাঁজ করলে ধানের শীষ প্রতীক চোখে পড়ে না কিংবা দাগের কারণে মুছে যেতে পারে। অথচ প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীককে কৌশলে সহজে দেখা যায় এমন জায়গাগুলোতে রাখা হয়েছে। চাইলেই খুব সহজে কলাম বা লাইনের সংখ্যা পুনঃবিন্যাস করে প্রতীকের অবস্থানগত এ বৈষম্য দূর করে পোস্টাল ব্যালটকে স্বচ্ছ রাখা যেত।
মাহদী আমিন বলেন, গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী আমলের গুম, খুন, হামলা ও মামলার সময়ে বিএনপির কয়েকজন প্রার্থী দেশের বাইরে ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তাদের সেখানে নাগরিকত্ব হয়েছিল এবং মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই তারা তাদের নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনপত্র থাকার পরও নির্বাচন কমিশনে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ সংবিধানের আর্টিক্যাল ৬৬ অনুযায়ী, সেখানে কোনো অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের অবকাশ নেই।
মাহদী আমিন বলেন, বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রতীকসহ সরাসরি নিজ নিজ প্রার্থী ও দলের জন্য ভোট চাইছেন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এবং অনলাইনে। অথচ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগত সফরে তার নানীর কবর জিয়ারত কিংবা মওলানা ভাসানী অথবা গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদসহ অন্যান্য শহীদের কবর জিয়ারতে বগুড়া ও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় যেতে চাইলেও, সেই ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় সফরকে স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। সেই অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে তিনি তার নির্ধারিত সফর বাতিল করলেও অন্যান্য দল ও নেতারা প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘন করে যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের এই নির্লিপ্ততা অনাকাক্সিত।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অপপ্রচার চলছে। মিস ইনফরমেশন, ডিস ইনফরমেশন ও ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন করা হচ্ছে। এর পরিপ্রেেিত বিএনপি নির্বাচন কমিশনে ফ্যাক্ট-চেকিং সেল গঠনের দাবি উত্থাপন করেছে। আমরা আহ্বান জানাই, দেশজুড়ে সেই ফ্যাক্ট-চেকিং সেল যেন অতি দ্রুত কার্যকর করা হয়। তিনি জানান, তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম সম্প্রতি ভেরিফাই করা হয়েছে। ব্লু টিক দেয়া এই দু’টি সোস্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ছাড়া তার আর কোনো অফিসিয়াল সোস্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নেই। তারেক রহমানের স্ত্রী ডা: জুবাইদা রহমানের নামেও অনেকগুলো ফেক ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। এসব পেজে এআই দিয়ে তৈরি বানোয়াট ও মিথ্যা ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে নির্বাচনের সময়ে গণমানুষের সাথে সম্পৃক্ততা তৈরির ল্েয।
মাহদী আমিন জানান, বিএনপি ইতোমধ্যে কল সেন্টার চালু করেছে। যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো বিষয়ে অনুসন্ধান, প্রয়োজনীয় তথ্য, পরামর্শ বা অভিযোগ কিংবা মতামত জানাতে ১৬৫৪৩ নম্বরে কল করতে পারবেন।