লংগদুতে পানির নিচে কৃষি জমি অনাহারের শঙ্কায় কৃষক পরিবার
Printed Edition
বিপ্লব ইসলাম লংগদু (রাঙ্গামাটি)
সঠিক সময়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি না কমায় চরম সঙ্কটে পড়েছেন রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার প্রায় ১৩ হাজার নিম্নআয়ের কৃষক পরিবার। জলে ভাসা কৃষি জমি এখনো পানিতে তলিয়ে থাকায় নির্ধারিত সময়ে বোরো ধানের আবাদ শুরু করতে না পেরে হতাশা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আসন্ন মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনাহারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে লংগদু উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যেসব জমিতে প্রতি বছর পৌষ মাসেই বোরো ধানের চাষ শুরু হতো, সেসব জমিতে এখনো পানির ঢেউ খেলছে। ফলে জমি প্রস্তুত করা তো দূরের কথা, বীজতলা রোপণ করাও সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকদের আশঙ্কা, নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে চলতি মৌসুমে আবাদ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
কাপ্তাই হ্রদের ভাসমান জমিতে চাষাবাদ করা কৃষক আবুল হোসেন, আব্দুর রহিম ও জাফর আলী জানান, বছরের পর বছর ধরে এসব জমিতে ধানসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল চাষ করেই তাদের সংসার চলে। কিন্তু চলতি মৌসুমে কাপ্তাই বাঁধের পানি না ছাড়ায় তাদের মতো হাজারো কৃষক মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকেই ইতোমধ্যে ঋণ করে বীজ ও সার কিনেছেন, আবাদ বন্ধ হলে সেই ঋণ পরিশোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
উপজেলার ভাসান্যাদম, বগাচতর, গুলশাখালী, কালাপাকুজ্জা, লংগদু সদর ইউনিয়ন ও মাইনী ইউনিয়নের জলে ভাসা জমির চাষিরা জানান, তারা ধানের বীজতলা তৈরি করলেও আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পানি না কমলে চাষাবাদ শুরু করা সম্ভব হবে না।
লংগদু উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যান তত্ত্ববিদ রতন কুমার চৌধুরী জানান, উপজেলায় মোট আট হাজার হেক্টর কৃষি জমির মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার হেক্টরই জলে ভাসা জমি। এসব জমিতে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কৃষক নির্ভরশীল। দ্রুত পানি না কমলে মৌসুমি ধান ও অন্যান্য ফসলের আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
এ দিকে পিডিবির ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, সম্প্রতি এক সভায় আগামী নির্বাচন পর্যন্ত পানি না কমানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তবে পানি ছাড়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি জানান। লংগদু উপজেলা ইউএনও জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, কৃষকদের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হবে, যাতে দ্রুত কাপ্তাই বাঁধ দিয়ে পানি ছাড়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যায়।