সাী অসুস্থ : জিয়াউল আহসানের মামলার পরবর্তী তারিখ ২৯ মার্চ
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক সেনাকর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সোমবার নির্ধারিত সাীর জবানবন্দী গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। সাী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় ট্রাইব্যুনাল শুনানির পরবর্তী তারিখ আগামী ২৯ মার্চ নির্ধারণ করেছেন।
মামলার রাষ্ট্রপরে আইনজীবী (প্রসিকিউটর) এস এম তাসমিরুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গুমের শিকার এক ভিকটিমের মায়ের সোমবার আদালতে দ্বিতীয় সাী হিসেবে স্যা দেয়ার কথা ছিল।
তাসমিরুল ইসলাম বলেন, রোববার বিকেলেও তার সাথে আমাদের যোগাযোগ হয়েছিল এবং তিনি আসার বিষয়ে নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি আসতে পারেননি। তিনি আরো জানান, পরবর্তী শুনানির দিন ভিকটিমের মা তার আরেক ছেলের সাথে আদালতে হাজির হবেন।
সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ এ জিয়াউল আহসানের মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলার কার্যক্রম নির্ধারিত ছিল। তবে এদিন ট্রাইব্যুনালে কোনো বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চেম্বার থেকে মামলাগুলোর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।
এ দিকে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রসিকিউটর অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনায় কিছুটা শৈথিল্য ল্য করা যাচ্ছে। এর ফলে ভুক্তভোগী ও সাীরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বোধ করছেন। এমনকি কিছু েেত্র অভিযোগকারী তাদের অভিযোগ তুলে নেয়ারও আবেদন করছেন। দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া না হলে এই বিচার প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে এ মামলায় প্রথম সাী হিসেবে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
ওবায়দুল কাদেরর মামলা
এ দিকে ট্রাইব্যুনাল-২ তে এদিন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় গতকাল সোমবার একজন সাী জবানবন্দী দিয়েছেন। এ নিয়ে এ মামলায় ১২ জন সাী জবানবন্দী দিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই মামলার বিচার চলছে। বিচারক মো: মঞ্জুরুল বাছিদের একক বেঞ্চ এই স্যা নেয়া হয়।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সব আসামিই পলাতক।
ট্রাইব্যুনালে গতকাল স্যা দেন মো: ইলিয়াস হোসেন। তিনি পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি জবানবন্দী দিয়েছেন। জবানবন্দীতে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে জমা দেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রতিবেদনে আলোচিত রাজনীতিবিদ ওবায়দুল কাদের এবং জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিতর্কিত কণ্ঠস্বরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিজিটাল ফরেনসিক পরীার মাধ্যমে ল্যাবরেটরিতে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
তদন্তকারী ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ট্রাইব্যুনালে দেয়া জবানবন্দীতে জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের সরবরাহকৃত প্রামাণ্য কণ্ঠস্বরের সাথে সিডিতে থাকা বিতর্কিত অডিও রেকর্ডগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পরীায় দেখা গেছে, বিতর্কিত কণ্ঠস্বরগুলো ওবায়দুল কাদের এবং জুনায়েদ আহমেদ পলকের কণ্ঠস্বরের সাথেই হুবহু মিলে যায়।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, কণ্ঠস্বর পরীার বিশ্লেষণে পাওয়া লাইকলিহুড রেশিও নিম্নরূপ : ওবায়দুল কাদের : ৬ দশমিক ৬৭৮। জুনায়েদ আহমেদ পলক : ১ দশমিক ২১৫। এই ফলাফল নির্দেশ করে যে, অডিও রেকর্ডে থাকা কণ্ঠস্বর ওই ব্যক্তিদেরই- যা আইনি ও ফরেনসিক ভাষায় ‘এক এবং অভিন্ন’ বলে গণ্য।