নিজস্ব ন্যাটো প্রতিরক্ষা গড়তে ইউরোপকে সময়সীমা বেঁধে দিলো যুক্তরাষ্ট্র

লক্ষণীয় অগ্রগতি না হলে কিছু ন্যাটো পরিকল্পনা থেকে সরে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

Printed Edition
Int-2
নিজস্ব ন্যাটো প্রতিরক্ষা গড়তে ইউরোপকে সময়সীমা বেঁধে দিলো যুক্তরাষ্ট্র

রয়টার্স

মার্কিন প্রশাসন ঘোষণা করেছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ইউরোপকে নিজস্ব নেতৃত্বে ন্যাটো প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এতে লক্ষণীয় অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র কিছু ন্যাটো পরিকল্পনা প্রক্রিয়া থেকে সরে যেতে পারে। তবে দেশটি কিভাবে অগ্রগতি পরিমাপ করবে তা স্পষ্ট নয়।

জোটের প্রতি ট্রাম্পের বক্তব্য উত্তপ্ত এবং ঠাণ্ডা। কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র এ সময়সীমা নির্ধারণ করেছে যাতে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারে এবং মার্কিন বাহিনীর ওপর নির্ভরশীলতা কমায়।

ওয়াশিংটন বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের প্রেক্ষাপটে ইউরোপকে দ্রুত প্রস্তুত হতে হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্র আর দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপের নিরাপত্তার প্রধান ভার বহন করবে না। বরং ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের অর্থায়ন, প্রযুক্তি এবং সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যাতে তারা প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ায়। বর্তমানে ন্যাটোর অনেক সদস্য দেশ প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি। ট্রাম্প প্রশাসন বারবার অভিযোগ করেছে, ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন করদাতাদের অর্থে নিরাপত্তা ভোগ করছে।

২০২৭ সালের সময়সীমা ঘোষণার পর ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জার্মানি ও ফ্রান্স বলছে, তারা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে প্রস্তুত, তবে এত অল্পসময়ে পূর্ণাঙ্গ কাঠামো গড়ে তোলা কঠিন হবে। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো, বিশেষ করে পোল্যান্ড ও বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো, এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, রাশিয়ার হুমকি মোকাবেলায় ইউরোপীয় নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জরুরি।

ন্যাটো মহাসচিবও বলেছেন, এ সময়সীমা ইউরোপকে আরো ঐক্যবদ্ধ করবে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার হলে ন্যাটোর কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। দীর্ঘ দিন ধরে ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মার্কিন নেতৃত্ব ছিল প্রধান ভরসা। এখন ইউরোপকে নিজস্ব সামরিক শিল্প, প্রযুক্তি ও কৌশলগত পরিকল্পনা জোরদার করতে হবে।