‘ইউফ্রেটিস থেকে নীল নদ পর্যন্ত ইসরাইলের অধিকার’
মার্কিন দূত মাইক হাকাবির বিতর্কিত মন্তব্য
Printed Edition
আলজাজিরা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইল দূত মাইক হাকাবি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ইসরাইল যদি মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ অঞ্চল দখল করে নেয়, তাতেও তার আপত্তি নেই। শুক্রবার কনজারভেটিভ ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে হাকাবি বলেন, বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী ইসরাইলের ভূমি ইউফ্রেটিস নদী থেকে নীল নদ পর্যন্ত বিস্তৃত। এতে আধুনিক লেবানন, সিরিয়া, জর্দান ও সৌদি আরবের অংশ অন্তর্ভুক্ত হয়।
কার্লসন যখন তাকে প্রশ্ন করেন, ইসরাইল যদি পুরো অঞ্চল দখল করে নেয় তবে তিনি কি সমর্থন করবেন, হাকাবি উত্তর দেন, ‘তারা দখল করতে চাইছে না। তবে যদি যুদ্ধ হয় এবং তারা জয়ী হয়ে ভূমি নেয়, সেটি অন্য আলোচনা।’ যদিও পরে তিনি মন্তব্যটিকে ‘অতিরঞ্জিত বলে ব্যাখ্যা দেন, তবুও তার বক্তব্যে ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী ধারণার প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
হাকাবি একজন খ্রিষ্টান জায়নিস্ট এবং ইসরাইলের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তবে তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক আইন ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতার নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আন্তর্জাতিক আইন বলছে, বলপ্রয়োগে ভূমি দখল বৈধ নয়। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) রায় দিয়েছিল, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখল অবৈধ এবং তা অবিলম্বে শেষ করতে হবে।
ইসরাইলের সীমানা আইনগতভাবে স্পষ্ট নয়। দেশটি সিরিয়ার গোলান মালভূমি ১৯৮১ সালে অবৈধভাবে সংযুক্ত করেছে, যা কেবল যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০২৪ সালে হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধের পর ইসরাইল লেবাননের ভেতরে পাঁচটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও অন্যান্য রাজনীতিবিদ ‘গ্রেটার ইসরাইল’ ধারণা প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন। ২০২৩ সালে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এমনকি একটি মানচিত্র প্রদর্শন করেছিলেন, যেখানে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডসহ লেবানন, সিরিয়া ও জর্দানের অংশকে ইসরাইলের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়।
কার্লসনের সাথে সাক্ষাৎকারে হাকাবি আন্তর্জাতিক আইনকে সমর্থন করার দাবি করলেও তিনি আন্তর্জাতিক আদালতগুলোকে ‘বিদ্রোহী প্রতিষ্ঠান’ বলে আক্রমণ করেন। তার মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন, কারণ এসব প্রতিষ্ঠান ন্যায্যভাবে আইন প্রয়োগ করছে না।
হাকাবি সমালোচিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় নীরব থাকার জন্য, যারা ইসরাইলি বাহিনীর হাতে নিহত বা বন্দী হয়েছেন। আরো বিতর্ক সৃষ্টি হয় যখন তিনি মার্কিন গুপ্তচর জনাথন পোলার্ডের সাথে সাক্ষাৎ করেন। পোলার্ড মার্কিন নৌবাহিনীর বিশ্লেষক ছিলেন এবং ইসরাইলের কাছে গোপন তথ্য বিক্রি করেছিলেন, যা পরে সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে পৌঁছায়। তিনি ৩০ বছর কারাভোগের পর ২০২০ সালে ইসরাইলে চলে যান এবং প্রকাশ্যে মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থার ইহুদি কর্মীদের ইসরাইলের জন্য গুপ্তচরবৃত্তির আহ্বান জানান।
হাকাবি দাবি করেছেন, তিনি পোলার্ডের মতের সাথে একমত নন, তবে দূতাবাসে তার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং এতে কোনো অনুশোচনা নেই। তিনি বলেন, ‘আমি দূতাবাসে অনেকের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, ভবিষ্যতেও করব।’