আকাশ ও সমুদ্রপথ বন্ধ ৮ আরব দেশের

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং তেহরানের পাল্টা পদক্ষেপের মধ্যে বেশ কয়েকটি আরব দেশ তাদের আকাশপথ ও সমুদ্রপথ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব, ইরাক, সিরিয়া ও মরক্কো পৃথক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপের কথা জানায়। এএফপি।

কাতারের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ‘অস্থায়ীভাবে বিমান চলাচল স্থগিত’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার খবরের পর সামুদ্রিক জাহাজ, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সাময়িকভাবে নৌ-চলাচল বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাধারণ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ একটি ‘ব্যতিক্রমী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে দেশটির আকাশপথ অস্থায়ী ও আংশিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম জানায়, এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে ফ্লাইট ও কর্মীদের নিরাপত্তা এবং জাতীয় ভূখণ্ড রক্ষা করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।

কুয়েত পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ইরানের উদ্দেশে সব ফ্লাইট স্থগিত ও বাতিল করেছে। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থাকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-রাজি জানান, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ইরানের আকাশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার কারণে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

বাহরাইনের বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের এবং প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের আকাশপথ বন্ধ থাকায় বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইটগুলো অন্য পথে চালিত, বাতিল বা সময়সূচি পরিবর্তন করা হতে পারে।

সৌদি আরব জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আম্মান, কুয়েত, আবুধাবি, দুবাই, দোহা, বাহরাইন, মস্কো এবং পেশোয়ারগামী ও ফেরত ফ্লাইটগুলো বাতিল করা হয়েছে। বিমান সংস্থাটি বলেছে, এই বাতিল আদেশ ২ মার্চ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ইরাকের পরিবহন মন্ত্রণালয় দেশটির আকাশপথ বন্ধ ঘোষণা করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মায়থাম আল-সাফি জানান, বন্ধের আগে ইরাকের আকাশপথ থেকে সব ধরনের বিমান চলাচল সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।

সিরিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল ও বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার দুপুর ১২টা থেকে দক্ষিণের আকাশপথগুলো ১২ ঘণ্টার জন্য অস্থায়ীভাবে বন্ধ থাকবে। মরক্কোর রয়্যাল এয়ার মারোক কয়েকটি দেশের আকাশপথ বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের কিছু ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।

এর আগে শনিবার জর্দান, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত- এই ছয়টি আরব দেশে বিস্ফোরণ, ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা, তিনজন নিহত এবং বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার খবর পাওয়া যায়। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। বাহরাইনের মানামায় মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর এবং কাতারের দোহায় আল উদিদ বিমান ঘাঁটি অবস্থিত। এ ছাড়া কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমান ঘাঁটিতেও মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে।