স্বাস্থ্য খাত দুর্নীতিতে ভেঙে পড়েছে, পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার : মন্ত্রী
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের স্বাস্থ্য খাতে বিগত সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
গতকাল জাতীয় সংসদে মো: কামরুল হাসানের ৭১ বিধিতে আনা মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মন্ত্রী বলেন, সবার জন্য স্বাস্থ্য নীতির আলোকে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদার সাথে চিকিৎসা সেবা দেয়া। দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় অনেক স্থাপনা নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ফুলবাড়িয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করে বলেন, ১৯৬৫ সালে নির্মিত এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার হয়নি। তবে আগামী অর্থবছরে এখানে নির্মাণ কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কামরুল হাসানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের অভাব, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সঙ্কট, বসার জায়গার স্বল্পতা, শয্যা সংখ্যা কম থাকা এবং রোগীর চাপ সামলাতে না পারা- এসব সমস্যা বাস্তব এবং দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে একই চিত্র বিদ্যমান। জনসংখ্যা বাড়ার সাথে তাল মিলিয়ে হাসপাতালের পরিসর বাড়ানো হয়নি এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিকসও বাড়ানো হয়নি।
স্বাস্থ্য খাত পুনর্গঠনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, আগামী বাজেটের পর লজিস্টিকস বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বাড়ানো এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ জনবল নিয়োগের জন্য কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।