সংসদে গঠনমূলক বক্তব্য উপস্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Printed Edition
first-3
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সরকারি দলের সংসদীয় সভায় সভাপতিত্ব করেন : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংসদে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য না দিয়ে গঠনমূলক বক্তব্য উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারদলীয় সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় উপস্থিত একাধিক সদস্য এ কথা জানান।

একাধিক সদস্য জানান, সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ সভায় চলতি অধিবেশনের ১৩৩ অধ্যাদেশ, বিভিন্ন বিল, বিভিন্ন বিধি ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের আলোচনায় কেউ কাউকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশেষ করে যার যতটুকু বক্তব্য কিংবা পয়েন্ট উত্থাপন করা প্রয়োজন, তিনি ততটুকুই দেবেন। অতিরিক্ত বক্তব্য কিংবা মন্তব্য করা যাবে না। এমনকি সংসদে কোনো অসত্য তথ্য উত্থাপন করা যাবে না; কারণ অসত্য তথ্য উত্থাপন করলে অন্য কেউ কথা বলার সুযোগ তৈরি হবে।

সভা সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেখানে তিনি বিরোধী দলে কোনো মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সদস্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন। তার এ বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, আমার জানামতে বিরোধী দলে মুক্তিযোদ্ধা নেই তথ্যটি সঠিক নয়। এ সময় তিনি জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে মুক্তিযোদ্ধা বলে মন্তব্য করেছেন। জানা গেছে, বিএনপির সভায় কেউ কেউ এ বিষয়ে বলেছেন, এ ধরনের বক্তব্যে দলের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ হয়েছে। পরে সংসদ নেতা সবাইকে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন না করতে নির্দেশনা দেন।

এ ছাড়াও সভায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধসহ ছয়টি অধ্যাদেশের ওপর আলোচনা করা হয়। এসব অধ্যাদেশ এখন পাস না হলেও পরবর্তীতে তা সংশোধন বা সংযোজন বিয়োজন করে সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হতে পারে বলেও জানা গেছে। এসব অধ্যাদেশ সম্পর্কে বক্তব্য, বিবৃতি, নোটিশ দিতে সতর্ক থাকতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন সংসদনেতা।

এ দিকে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদেরকে সঠিক সময়ে সংসদে উপস্থিত থাকা। আক্রমণাত্মক কিংবা ভুল তথ্য দিয়ে বক্তব্য না দেয়া, তথাভিত্তিক বক্তব্য রাখতেও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারদলীয় একাধিক সংসদ সদস্য জানান, প্রধানমন্ত্রী সভায় আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। সভায় কারো নাম উল্লেখ না করে তিনি সংসদে অসত্য তথ্য উত্থাপন না করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। কোনো আক্রমণাত্মক বক্তব্য না দিয়ে গঠনমূলক বক্তব্য দিতে বলেছেন। এ ছাড়া যে যে বিষয়ে দায়িত্বশীল তাকেই সে বিষয়ে কথা বলতে হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।

তিনি বলেন, সংসদে বিলগুলো পাসের ক্ষেত্রে সবার ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে এবং সবাই যেন যথা সময়ে সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত থাকেন সে ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।