ছাত্রশিবিরের ইফতারে অংশ নিলেন জামায়াত আমিরসহ বিশিষ্ট জনরা
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও বরেণ্য আলেমে দ্বীনরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা: শফিকুর রহমান রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে তাকওয়া অর্জনের জন্য রোজাকে ফরজ করেছেন। এক মাসের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ যেন বাকি ১১ মাসের নেয়ামতগুলোর শোকরগোজার করতে শেখে। রমজান আমাদের সংযম, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহভীতির শিক্ষা দেয়। তিনি পরকালে প্রতিটি নেয়ামতের হিসাব দেয়ার প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে শিবির সভাপতি নূরুল ইসলাম দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ ও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর দেশে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা বেড়েছে। ঢাকা পলিটেকনিক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির নেতাকর্মী এবং সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।
বিএনপিকে ‘গণ-অভ্যুত্থানের বেনিফিশিয়ারি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা জনগণের ম্যান্ডেটের তোয়াক্কা করছে না। এ ছাড়া আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের প্রচেষ্টাকে জনগণের সাথে ‘প্রতারণা’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইফতার মাহফিলে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব:) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়্যেদ কামালুদ্দীন আব্দুল্লাহ জাফরী, ইসলামী গবেষক মোহাম্মদ ইব্রাহীম, তা’মীরুল মিল্লাতের সাবেক প্রিন্সিপ্যাল অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নুল আবেদীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে বদর দিবসের শিক্ষা ধারণ করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ইফতার মাহফিল শেষ হয়।