দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ অস্ত্রসজ্জিত হওয়ার প্রমাণ নেই : ইউনিফিল
Printed Edition
ডেইলি সাবাহ
লেবাননে জাতিসঙ্ঘের অন্তর্বর্তী শান্তিরক্ষা বাহিনী (ইউনিফিল) জানিয়েছে, ইসরাইলের সাথে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দক্ষিণ লেবাননে ইরানপন্থী প্রতিরোধ সংগঠন হিজবুল্লাহ আবারো অস্ত্রসজ্জিত হচ্ছে- এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। শুক্রবার জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউনিফিলের মুখপাত্র কানডিস আর্ডিয়েল বলেন, ‘গত বছর যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলে নতুন অস্ত্র প্রবেশ, কোনো অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর নতুন সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ বা সামরিক তৎপরতার কোনো প্রমাণ আমরা দেখিনি।’
তিনি জানান, শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা প্রতিদিন মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। আর্ডিয়েল বলেন, ‘সংঘর্ষের আগে ও চলাকালীন সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইউনিফিল বাহিনী তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন করেছে।’ তিনি আরো বলেন, দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি এখনো নাজুক হলেও গত বছরের সঙ্ঘাতের পর পুনর্গঠিত স্থিতিশীলতা আরো সুসংহত করতে শান্তিরক্ষীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইউনিফিলের মুখপাত্র জানান, শান্তিরক্ষীরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন এবং প্রতিদিন তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন দাখিল করছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০টি অস্ত্রের গোপন ভাণ্ডার ও সামরিক অবকাঠামোর সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলো ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করার জন্য লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে লেবাননের সেনাবাহিনীও নিজ উদ্যোগে অনুরূপ অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধান পাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি নির্দিষ্ট কোনো শতকরা হিসাব দিতে পারছি না, তবে এটুকু বলতে পারি যে আমরা এখনো পরিত্যক্ত অস্ত্রের গুদাম ও সামরিক অবকাঠামো আবিষ্কার করে যাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী, এ যুদ্ধবিরতির আওতায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ এবং লিতানি নদীর উত্তর দিকে সরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। লিতানি নদীটি ইসরাইল-লেবানন সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।