জেআইসিতে গুম-নির্যাতন

সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ রোববার

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) ‘গুম ও নির্যাতনের’ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক ও বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ হবে ১৪ ডিসেম্বর।

গতকাল মঙ্গলবার প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দিন ঠিক করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এ মামলার ১৩ আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি বিষয়ে অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন।

অপর দিকে গ্রেফতার তিন সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ আসামির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। শেখ হাসিনাসহ বাকি আসামিরা পলাতক। এ মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে তিন সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার রয়েছেন। এদিন সকালে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ।

তারা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) মেজর জেনারেল শেখ মো: সারওয়ার হোসেন, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিকী। অপর দিকে শেখ হাসিনা ও মামলার বাকি ৯ সেনা কর্মকর্তা পলাতক।

পলাতক ৯ সেনা কর্মকর্তা হলেন- প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: আকবর হোসেন, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো: সাইফুল আবেদিন, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: সাইফুল আলম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল হামিদুল হক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মখছুরুল হক।

গত ২৩ নভেম্বর পলাতকদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী) নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন স্বেচ্ছায় লড়তে চাইলে শেখ হাসিনার আইনজীবী হন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে ৩ ডিসেম্বর তিনি সরে দাঁড়ান। এরপর মো: আমির হোসেনকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী করা হয়।

গত ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা এ মামলার তিন সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই সাথে পলাতক আসামিদের হাজিরের জন্য দু’টি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়।

এ মামলায় গত ৮ অক্টোবর ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।