খেলার আনন্দে খেলা দেখছি
Printed Edition
শেলী জামান খান নিউ ইয়র্ক থেকে
সারা পৃথিবী এখন বিশ্বকাপ ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত। আমেরিকায় ফুটবল খুব একটা জনপ্রিয় খেলা না হলেও এ বছর ফুটবলকে ধারন করেছে আমেরিকা। আমেরিকাকে এত আনন্দিত, এত উত্তেজিত আর এত উৎসবমুখর দেখা যায়নি বহুদিন। বেসবল আর বাস্কেটবলের উন্মাদনায় যাদের দিন কাটে তারা এখন বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে উন্মাদনায় মাতোয়ারা। এই উন্মাদনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বিভিন্ন স্টেটে বিশেষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছে। অনেকগুলো ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ বছরের পর, চলমান যুদ্ধের পর আমেরিকাবাসী যেন এক অন্যরকম আনন্দ, এক অন্যরকম ঐক্যের অনুভূতি পাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় বসবাস করছি। এই দেশটির নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছি তাও অনেক দিন হলো। এ দেশটি এখন আমার হোমল্যান্ডও বটে। এ দেশের মাটি, আকাশ, আলো, বাতাস আমাকে মানসিকভাবে মুক্তি দিয়েছে। স্বাধীনতার স্বাদ দিয়েছে। জীবনকে ভালোবাসতে, এমনকি জীবন উদযাপন করতে শিখিয়েছে। নিজেকে ভালোবাসি বলেই এখন মানবতায় বিশ্বাস করি। অন্যকে শ্রদ্ধা করি। অন্যের মতামত, আদর্শকে সম্মান করি। কারো স্বাধীনতায় হস্তপে করা থেকে বিরত থাকি।
এ দেশের মানুষের কাছে, সমাজের কাছে শিখেছি কিভাবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। শুধু আমাকে নয়, আমার সন্তানদেরও আশ্রয়, শিা, চিকিৎসা দিয়েছে। এ কারণেই এবার বিশ্বকাপে আমেরিকা আমার সমর্থনপুষ্ট দল। বিপুলসংখ্যক দর্শক বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে টিকিট সংগ্রহ করে খেলা দেখছে। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে, দলের গেটাপ নিয়ে স্টেডিয়াম মাতাচ্ছে। বলাবাহুল্য এই জোয়ারে আমরাও সপরিবারে গা ভাসিয়েছি। তবে যারা ভালো খেলছে তাদেরই সাপোর্ট করছি। একেবারে নির্দিষ্ট কোনো দল নয়, বরং খেলার আনন্দে খেলা দেখছি!
যৌবনকালে, ম্যারাডোনা যুগে, আমি আর্জেন্টিনার একজন ডাই-হার্ড-ফ্যান ছিলাম। কিন্তু এখন ভাটির বয়সে এসে আগের মতো আর উচ্ছ্বাসের জোয়ারে ভেসে যেতে ইচ্ছে করে না। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনোভাবেই, কোনো কিছুকেই আর অন্ধ সমর্থন করতে পারি না। তাই আমি ইরানের পওে আছি। আমি চাই ইরান ভালো করুক। বিগত দিনগুলোতে ইরানকে অনেক অহেতুক ঝড়ঝাপটা সামলাতে হয়েছে। এখনো হচ্ছে। ইরানি খেলোয়াড়রা খেলছে মাথার ওপর যুদ্ধের দামামা নিয়ে। প্র্যাকটিস করা, রিলাক্স করার সময় তাদের হয়নি। উপরন্তু খেলা চলাকালীনও তারা বেশ নাজেহাল হয়েছে।