হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধবিরতিতে রাজি নয় ইসরাইল

হিজবুল্লাহও ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে

Printed Edition
onno-1
বৈরুতের দাহিয়েহ জেলায় ইসরাইলি হামলার পর ধ্বংসাবশেষ অপসারণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে : ইন্টারনেট

আলজাজিরা

আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবাননের সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ইসরাইল। তবে এই আলোচনার প্রাক্কালে ইসরাইল সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা হিজবুল্লাহর সাথে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করবে না। একদিকে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় নতুন করে অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল শনিবার দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন জরুরি পরিষেবা কর্মীও রয়েছেন। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের ১০টিরও বেশি স্থানে ইসরাইলি বাহিনী অভিযান ও বোমাবর্ষণ চালিয়েছে। বিশেষ করে নাবাতিয়েহ জেলার মায়ফাদুন এলাকায় একটি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। লেবানন সরকার অভিযোগ করেছে যে, ইসরাইল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চিকিৎসাকর্মী ও উদ্ধারকারীদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার রাতে ইসরাইল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতরা ওয়াশিংটনের স্টেট ডিপার্টমেন্টে মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় বৈঠকের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার বলেছেন, এই বৈঠকটি লেবানন সরকারের সাথে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনার সূচনা করবে। যদিও দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। লেইটার স্পষ্ট করে বলেন, ইসরাইল লেবাননের সাথে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহর সাথে কোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আমরা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছি।

ইসরাইলের এই অবস্থানের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির ঘনিষ্ঠ লেবানিজ সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, হিজবুল্লাহ ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার এই উদ্যোগকে প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি একে লেবাননের সংবিধান, জাতীয় চুক্তি এবং আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ফাদলাল্লাহর মতে, যে সরকার তার জনগণকে রক্ষা করতে ব্যর্থ এবং যার সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রকৃত ক্ষমতা নেই, তারা জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে পারে না। এই আলোচনা লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিভেদকে আরো উসকে দেবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

এদিকে, কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, ওয়াশিংটন এবং বৈরুত আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে ইসরাইলকে হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছিল। রয়টার্স এবং অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এবং লেবানন সরকার শত্রুতা সাময়িক স্থগিতের আহ্বান জানালেও ইসরাইল তা কানে তোলেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বোমাবর্ষণ কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, এই হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সাথে তাদের যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, তার মধ্যে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের লড়াই বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। তবে ইসরাইল এই ব্যাখ্যা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিবাদে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছে। বিপরীতে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ নয়, যা ইরান ও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত।

আগামী সপ্তাহের ওয়াশিংটন বৈঠকটি তাই অত্যন্ত জটিল রূপ নিতে যাচ্ছে। ইসরাইল যেহেতু হিজবুল্লাহকে আলোচনার বাইরে রাখছে, তাই এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে লেবানন সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করা, যাতে তারা হিজবুল্লাহর সশস্ত্র কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তবে হিজবুল্লাহর শক্ত বিরোধিতা এবং মাঠ পর্যায়ের সঙ্ঘাত অব্যাহত থাকায় এই শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।