তজুমদ্দিনে অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণে ঘরহারা কয়েক শ’ পরিবার

Printed Edition
bangla-4
তজুমদ্দিনে বাঁধে দাঁড়িয়ে ঘরহারা পরিবারের সদস্যরা : নয়া দিগন্ত

হেলাল উদ্দিন লিটন তজুমদ্দিন (ভোলা)

ভোলার তজুমদ্দিনে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অপরিকল্পিত ও খামখেয়ালি বেড়িবাঁধ নির্মাণের কারণে নিকটবর্তী এলাকার কয়েক শ’ পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাসের ঝুঁকিতে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই তাদের বসতঘর ও ফসলি জমি ভেঙে মাটি কাটার কাজ শুরু করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত আড়াই শ’ পরিবার প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এবং গত শুক্রবার থেকে বেড়িবাঁধের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ‘উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন জীবনমান প্রকল্প’-এর আওতায় প্রায় ৭৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স গোলাম রব্বানী কনস্ট্রাকশন। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে মাটি কাটার কাজ শুরু করলে দালালকান্দি ও মাওলানাকান্দি এলাকার দুই শতাধিক বসতঘর, ফসলি জমি ও সুপারি বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ক্ষতিপূরণ না দিয়েই জোর করে কাজ চালানো হচ্ছিল। ফলে ক্ষতিগ্রস্তরা একত্র হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং বেড়িবাঁধের অবস্থান বর্তমান স্থান থেকে ৫-১০ ফুট পূর্বদিকে সরানো অথবা যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। এরই মধ্যে যেসব ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে, সেসব দরিদ্র ও ভূমিহীন পরিবার কনকনে শীতে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত শাহিন বলেন, ‘ঠিকাদারের লোকজন ১৫ হাজার টাকা দিতে চেয়েছিল; কিন্তু তা গ্রহণ করিনি। আমাদের ঘর ভিটা রক্ষা করতে হলে বাঁধের অবস্থান সরাতে হবে, নইলে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক তন্ময় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অপারগতা জানান।

তজুমদ্দিন-লালমোহন সার্কেলের এসএসডিও আহসান আহমেদ বলেন, সরকারি বরাদ্দ না থাকায় জমি ও ঘরের ক্ষতিপূরণ দেয়া সম্ভব নয়। তবে জমির মালিকদের সাথে আলোচনা করে সমঝোতার মাধ্যমে কাজ পুনরায় শুরুর চেষ্টা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম জানান, এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।