ছুটিকালীন ৭ দিনে ২৫ লাখ মেট্রিক টন কার্গো ও ৫৫ হাজার টিইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং

ঈদের ছুটিতেও পুরোদমে সচল ছিল চট্টগ্রাম বন্দর

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম

ঈদের ছুটির মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দর তার অপারেশনাল সক্ষমতা বজায় রেখেছে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে পণ্য খালাস ও জাহাজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ঈদের আগে বন্দর কর্তৃপক্ষের নেয়া নানা সিদ্ধান্ত ও ঈদের বন্ধে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে বলে বন্দর সূত্র জানিয়েছে। ছুটিকালীন ৭ দিনে বন্দরে মোট ২৫ লাখ ৮ হাজার ৬১৪ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং এবং ৫৪ হাজার ৮৯৮ টিইউএস (২০ ফুট একক) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র মতে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পবিত্র রমজান মাসে এবং ঈদ ছুটিতে জ্বালানি তেলের সাপ্লাই চেইন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। এ ছাড়া বন্দরের ভেতরে জ্বালানি তেলবাহী ও অন্যান্য পণ্য বহনকারী জাহাজ যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে আগমন, খালাস ও প্রস্থান করতে পারে সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

সূত্র জানায়, সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে বন্দরের পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রোস্টারভিত্তিক দায়িত্ব পালন, বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মনিটরিং ও পণ্য আমদানি-রফতানির সাথে জড়িত সবার সহযোগিতার ফলেই বন্দরকে কর্মমুখর রাখা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া ঈদের ছুটিকালীন সময়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাথে সমন্বয়ক্রমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এ সময়ে সরকার ঘোষিত হাইওয়েতে লং ভেহিক্যাল চলাচল বন্ধ থাকা সময়ে কেবলমাত্র অত্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় আমদানিকৃত পণ্য এবং জরুরি রফতানিসামগ্রী বিশেষ বিবেচনায় চলাচলের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর হতে এরূপ পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য বিশেষ স্টিকার দেয়া হয়। এতে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জনমানুষের দুর্দশা লাঘব এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হয়েছে।

ছুটির সময়ে বন্দরের হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের চিত্র

কার্গো হ্যান্ডলিং : গত ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনে বন্দরে ২৫ লাখ ৮ হাজার ৬১৪ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে আমদানিকৃত পণ্য ছিল ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৬ মেট্রিক টন এবং রফতানি হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮২৮ মেট্রিক টন। ১৮ মার্চ একদিনে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৪ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়।

কনটেইনার হ্যান্ডলিং : এই সময়ে মোট ৫৪ হাজার ৮৯৮ টিইউএস (২০ ফুট একক) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। আমদানিকৃত কনটেইনারের সংখ্যা ২৮ হাজার ৯৬১ টিইউএস এবং রফতানি কনটেইনারের সংখ্যা ২৫ হাজার ৯৩৭ টিইউএস। ১৮ মার্চ সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৬১ টিইউএস কনটেইনার প্রসেস করা হয়েছে।

জাহাজ (ভেসেল) চলাচল : আলোচ্য সপ্তাহে ৬৪টি জাহাজ বন্দরে বার্থিং ও হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। ১৯ মার্চ সর্বোচ্চ ১৪টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয় এবং ছুটির আমেজ কাটিয়ে ২৩ মার্চ পুনরায় ১২টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করে বন্দর তার পূর্ণগতিতে ফিরে এসেছে।

ওয়েটিং টাইম কমানো : চট্টগ্রাম বন্দরে সাম্প্রতিক সময়ে কর্মবিরতি ও জাহাজের আগমনের হার বৃদ্ধির ফলে জাহাজের ওয়েটিং টাইম দুই বা তিন দিনে উন্নীত হয়। তবে বর্তমানে কর্তৃপক্ষের সার্বিক মনিটরিং এবং সমন্বয়ের ফলে আউটার অ্যাঙ্করেজে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় পুনরায় শূন্য দিন করা সম্ভব হয়েছে, যা বন্দরের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে এই জিরো ওয়েটিং টাইম বজায় রেখে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাইয়েদ রেফায়েত হামীম জানিয়েছেন, ঈদের ছুটির সময়েও চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম থমকে থাকেনি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ছুটির মাঝে ২১ মার্চ ঈদের দিন কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও, পরবর্তী দুই দিনেই (২২ ও ২৩ মার্চ) জাহাজ ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৪ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, বন্দরের ৫৯ হাজার টিইউএস ধারণক্ষমতার বিপরীতে বর্তমানে ৪৩ হাজার ২০০ টিইউএস কনটেইনার অবস্থান করছে। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ২৫৩ টিইউএস পূর্ণ (এফসিএল) কনটেইনার, ২ হাজার ৬৫৪ টিইউএস ডিপো কনটেইনার এবং ১ হাজার ৬৫২ টিইউএস খালি কনটেইনার রয়েছে।

এ ছাড়া কমলাপুর আইসিডিগামী ৫১২ টিইউএস কনটেইনার বর্তমানে বন্দরে অবস্থানের তালিকায় রয়েছে। তিনি জানান, পণ্য খালাসের ক্ষেত্রেও গতিশীলতা বজায় রয়েছে; পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫৮১ টিইউএস কনটেইনার ডেলিভারি দেয়া হয়েছে এবং আরো ৫২৫ টিইউএস ডেলিভারির জন্য নির্ধারিত রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেশের সরবরাহ চেইনকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি জানান।