তারেক রহমান স্বল্প সময়ে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন
২০তম কারাবন্দী দিবসে জ্বালানিমন্ত্রী টুকু
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আশা প্রকাশ করে বলেছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই তার কর্মের মাধ্যমে দেশের জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ২০তম কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব হাতে নিয়েছেন। স্বল্প সময় তার নেতৃত্বে কাজ করে আমরা দেখেছি, মাত্র ২০ দিনেই তার বলন, চলন ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি মানুষের আস্থার একটি জায়গা তৈরি করেছেন। সে আস্থার স্থলের সৈনিক হচ্ছেন আমাদের দলের নেতাকর্মীরা। তাই আমাদেরও জনগণের কাছে আস্থার জায়গা তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা যদি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারি, তাহলে তারেক রহমান বাংলাদেশের অনন্য ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন। যেমন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন, তেমনি তারেক রহমানও তার কর্মের মাধ্যমে দীর্ঘদিন রাজনীতির আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবেন।
টুকু ১/১১ পরবর্তী সময়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, দেখতে দেখতে ২০ বছর কেটে গেছে। এ সময়টা আমাদের জীবনের অনেক মূল্যবান সময় কেড়ে নিয়েছে। যখন আমরা বন্দী হয়েছিলাম এবং আমাদের নেতা কারাগারে ছিলেন, তখন আমরা সবাই তরুণ ছিলাম। দীর্ঘ এ সময়ে আমরা বয়সে প্রবীণ হয়েছি। তবে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন, কষ্টের পর পুরস্কার আসে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ আমরা সে পুরস্কারের পথেই এগোচ্ছি।
তিনি বলেন, প্রতি বছর তারেক রহমানের কারাবন্দী দিবসে আমি উপস্থিত থেকেছি। শুধু দুই বছর আসতে পারিনি। কারণ শেখ হাসিনার আমলে আমাকে ৯ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। সেই রায় আমি প্রত্যাখ্যান করেছিলাম এবং বলেছিলাম, শেখ হাসিনার জেলে আমি যাবো না। শেষ পর্যন্ত তারা আমাকে জেলে নিতে পারেনি।
টুকু আরো বলেন, এক-এগারোর পটভূমি তৈরি করা হয়েছিল বিএনপিকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে। সেই কারণেই তারেক রহমানসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল। কিন্তু শত নির্যাতন ও প্রলোভনের পরও তারা তারেক রহমানকে নিজেদের কবজায় নিতে পারেনি। দলের কর্মী হিসেবেও আমাদের কেউ ক্রয় করতে পারেনি। জেল-জুলুম দিয়েও আমাদের মাথা নত করানো যায়নি।
তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা যারা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছি, তারা আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করব এবং উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নিয়ে যাবো।
বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে টুকু বলেন, আমরা এমন একটি সময়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম শক্তি ও জ্বালানি সরবরাহের উৎস হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। সে প্রেক্ষাপটে আমরা যে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছি, তা ছিল একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থায়। ঋণে জর্জরিত একটি দেশ আমরা হাতে পেয়েছি, যেখানে সর্বত্রই বকেয়া দায়দেনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এক-এগারোর সময়ে তারেক রহমানকে গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে ধরতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতারের আগে আমার সাথে তার শেষ কথা হয়েছিল। কারাগারে ও কারা হেফাজতে তার ওপর যে অমানবিক নির্যাতন হয়েছে, তা দেশের মানুষ জানে। জনগণের দোয়া সবসময় তার সাথে ছিল, আজ সেটিই প্রমাণিত হয়েছে।
উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের সভাপতি ইমতিয়াজ রাজা সৌরভের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানসহ সংগঠনের নেতারা।