নারী ফুটবলের ঐতিহাসিক ম্যাচ আজ থেকে
আজ প্রতিপক্ষ চীন, ৬ তারিখে উত্তর কোরিয়া এবং ৯ তারিখে উজবেকিস্তান
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রতিপক্ষ কোনোটিই র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের ধারে কাছে নেই। আফঈদা খন্দকারদের ১১২ র্যাংকিংয়ের বিপরীতে উত্তর কোরিয়া ৯, চীন ১৭ এবং উজবেকিস্তান ৪৯ তে। গত বছর ৫৫তে থাকা মিয়ানমারকে হারিয়েই এবারের নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার টিকিট অর্জন করা বাংলাদেশের। ৯ মার্চ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে তাই ভালো কিছু করার প্রেরণা মিয়ানমারের মাঠের সেই স্মৃতি। তবে এর আগে আজ ও ৬ মার্চ আফঈদা খন্দকারদের ওপর যে ঝড় বইবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। আজ বাংলাদেশ সময় বেলা ২টা এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনির সময় সন্ধ্যা ৭টায় ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে শক্তিশালী চীনের সামনে পিটার জেমস বাটলার বাহিনী। ৬ তারিথে তাদের ম্যাচ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে। ‘বি’ গ্রুপের তিন ম্যাচ শেষে লাল-সবুজ নারীদের ফলাফল যাই হোক না কেন আজ এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নিচ্ছে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল। এই প্রথম তারা নারী ফুটবলে এশিয়ার সর্বোচ্চ আসরে ম্যাচ খেলছে। এরপর আরো দু’টি ইতিহাস হবে যদি বাংলাদেশ দল গ্রুপ পর্ব ডিঙ্গিয়ে সেরা আটে উঠতে পারে এবং পরের ধাপে অর্থাৎ সেরা ছয়ে থাকতে পারে। খেলা দেখাবে টি-স্পোর্টস।
একটি আসরে তিনটি অনন্য নজির গড়ার সুযোগ। একটি গড়া হয়ে গেছে সেরা ১২তে নাম লেখানোর মাধ্যমে। এখন সেরা আটে উঠতে পারলে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসে খেলার সুযোগ। আর সেরা ছয়ে পৌঁছালেই আগামী বছর ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলার ছাড়পত্র অর্জন। বাংলাদেশ যদি শেষ আটে উঠে এবং সেখানে হেরেও যায় এর পরও বিশ্বকাপ বাছাই প্লে-অফ খেলতে পারবে। সেখানে একটি ম্যাচ জিতলেই বিশ্বকাপে। তা আদৌ সম্ভব হবে কি না তা ৯ মার্চই জানা যাবে। তবে এখন বাংলাদেশ দলের সব মনযোগই চীনের ম্যাচকে ঘিরে। বাস্তবতা বলছে এই ম্যাচে গোলোৎসব হতে পারে চীনাদের।
নারী এশিয়ান কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল চীন। এ ছাড়া ৯ বারের এশিয়া সেরা তারা। তাদের বিপক্ষে টানা দুইবারের সাফ জয়ীরা অবশ্যই ছোট প্রতিপক্ষ। তবে বাংলাদেশ দল যাতে কাক্সিক্ষত ফল পায় সে জন্য দলকে আগে ভাগেই সেখানে পাঠানো হয়েছে। একটি প্রস্তুতি ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করা। খোদ বাফুফে সভাপতি তাবিথ আওয়াল অবস্থান করছেন সিডনিতে। তিনি এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি ম্যাচের আয়োজন করলেও শেষ পর্যন্ত কোরিয়ানরা সেই ম্যাচ খেলেনি। সে ম্যাচ হলে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ফলাফলের আগাম ইংগিত পাওয়া যেত।
দেশবাসীর অনেক প্রত্যাশা নারী এশিয়ান কাপকে ঘিরে। তবে ময়দানি লড়াইয়ে সেই প্রত্যাশার বেলুন ফুটো হয়ে যেতে পারে। তা মাথায় রেখেই কোচ পিটার বাটলার জবাব দিলেন ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে। এই ব্রিটিশ কোচের মতে, ‘চীনের বিপক্ষে সেরাটা দেয়ারই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। তবে বাস্তবতা বোঝার জন্য বলছি। যাতে কোনো উচ্চাকাক্সক্ষা তৈরি না হয়।’ এরপর যোগ করেন , আমরা বাংলাদেশে গুলিস্তানে ক্যাম্প করে এসেছি। আর এখন আছি অস্ট্রেলিয়ায়।’ কোচ এখানে এই তুলনার মধ্যে দুই দেশের ফুটবল সুযোগ-সুবিধার চিত্রই তুলে ধরলেন। জানান, যদি প্রস্তুতি যথাযথ না হয় তাহলে ভালো কিছু আশা না করাই ভালো। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় কয়েকদিন আগে অনুশীলন করার সুযোগ সন্তুষ্টি।
প্রশ্ন হচ্ছে, চীনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও কি কোচ তার হাইলাইন ডিফেন্স কৌশলে খেলবেন। নাকি রক্ষণভাগে বেশি খেলোয়াড় রেখে রয়ে সয়ে খেলার কৌশলে যাবেন। সংবাদ সম্মলনে কোচের জবাব, ‘চীনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে অবশ্যই ডিফেন্স লাইন শক্তিশালী রাখতে হবে। তবে রক্ষণ ভাগে ৩-৪ নাকি পাঁচজনকে রাখা হবে তা মাঠেই দেখা যাবে। তবে আমরা বাস পার্ক করার মতো দল নই। আমি চাই মেয়েরা মাঠে স্বাধীনভাবেই খেলুক নিজেদের মেলে ধরুক।’ ফুটবলের ভাষায় শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বেশি গোল হজম করা রোধে ডিফেন্সে অতিরিক্ত খেলোয়াড় রাখাকে বলে বাস পার্ক।
তবে বাংলাদেশ দল যে হাইলাইন ডিফেন্সে খেলবে তা উল্লেখ করলেন অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রান্তিও। জানান, ‘আমরা হাইলাইন ডিফেন্সেই খেলব। যা আমরা খেলে আসছি।’ চীন অনেক শক্তিশালী। তবে এ নিয়ে কোনো চাপই নেই বাংলাদেশ ক্যাপ্টেনের। জানান, ‘কোনো চাপ নিচ্ছি না। আমরা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। দেশের মানুষের জন্য খেলছি। খেলাটা উপভোগ করতে চাই। মাঠে নামলে আমরা তাদের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন খেতাবটা দেখবো না। আমরা আমাদের সেরাটাই দেবো।’
এই ম্যাচ দেখতে ৩০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গ্যালারির বড় অংশ যে থাকবে বাংলাদেশীদের দখলে এটা অনুমেয়।
যেভাবে কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে পারে বাংলাদেশ
এক. বাংলাদেশকে ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানকে হারাতে হবে। এরপর ‘এ’ গ্রুপে ইরান ও ফিলিপাইন প্রথম দুই ম্যাচে হেরে নিজেদের পারস্পরিক শেষ ম্যাচে ড্র করতে হবে। একইভাবে ‘সি’ গ্রুপে ভারত ও চাইনিজ তাইপে প্রথম দুই ম্যাচে হারের পরে নিজেদের পারস্পরিক শেষ ম্যাচে ড্র করতে হবে।
দুই. বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান, ইরান, ফিলিপাইন এবং ভারত ও চাইনিজ তাইপে যদি নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে হারে এবং শেষ ম্যাচে ড্র করে তখন গোল পার্থ্যকে এগিয়ে থাকতে হবে লাল-সবুজদের। মোট কথা জয়ের সাথে গোল পাার্থক্যও একটি বিষয়।
পরশু প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ০-১ গোলে হেরেছিল ফিলিপাইন। কাল ইরানকে ৩-০তে হারায় দক্ষিণ কোরিয়া।