আলোচনা সভায় বক্তারা

পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল স্বাধীনতা হরণের গভীর নীলনকশা

Printed Edition
back-5
জাতীয় প্রেস ক্লাবে সুশীল ফোরামের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর সদরদফতরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা হরণ ও সামরিক শক্তিকে পঙ্গু করার এক সুপরিকল্পিত ‘নীলনকশা’। সিকিমের আদলে এ দেশে লেন্দুপ দর্জি বসিয়ে সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করতেই এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খঁাঁ মিলনায়তনে ‘সুশীল ফোরাম’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭তম বার্ষিকী (২৫ ফেব্রুয়ারি) উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এ তদন্তকে এগোতে দেয়া হয়নি। তৎকালীন সরকারের অদূরদর্শিতা বা ইচ্ছাকৃত বাধার কারণে সেনাবাহিনী বা র‌্যাবকে সময়মতো সদরদফতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা হরণ ও সামরিক শক্তিকে পঙ্গু করার এক সুপরিকল্পিত ‘নীলনকশা’। সিকিমের আদলে এ দেশে লেন্দুপ দর্জি বসিয়ে সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করতেই এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যখন সেনাবাহিনীকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল, তখন রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা সেখানে প্রবেশ করেছিলেন। এমনকি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে খুনিদের বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়া হয়েছিল, যাতে তারা নিরাপদে ভারতে পালিয়ে যেতে পারে।

সভায় বক্তারা বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তদন্তে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ ১৮ জন নেতার এ ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। এটি প্রমাণ করে যে, এ নৃশংসতা ছিল প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের একটি সম্মিলিত প্রয়াস।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ‘পুনঃতদন্ত কমিশন’ গঠনের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সভায় প্রশ্ন তোলা হয় এ তদন্ত কি অপরাধ আড়াল করার জন্য, নাকি প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার জন্য?

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জাতি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত চায় না। জুলাই বিপ্লবের চেতনার আলোকে একটি নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, কেবলমাত্র সরকার পরিবর্তনই দেশের মানুষের লক্ষ্য নয়, বরং রাষ্ট্রের চরিত্রের আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত স্বাধীনতা রক্ষা করা সম্ভব। সভা শেষে পিলখানায় শহীদ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

সুশীল ফোরামের সভাপতি মো: জাহিদের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিডিআর কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ফয়জুল আলম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য নুরুন্নবী মানিক, যুবদলের সাবেক সভাপতি আলতাফ হোসেন মোল্লা, ওয়ার্ল্ড ইনসাফ সোসাইটির চেয়ারম্যান খান রায়হান প্রমুখ।