বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ

বিদেশের মাটিতে বসে ষড়যন্ত্র না করে দেশে আসুন : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

Printed Edition

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে (অব:) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে বাধা দিতে যারা বিদেশের মাটিতে বসে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছেন সাহস থাকলে দেশে আসুন। আমরা সব ষড়যন্ত্র প্রতিহতের প্রস্তুতি নিয়েছি। আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর আট লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৪৫৩ বিজিবি সদস্য। যাতে কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।

গতকাল বুধবার সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বিজিবির ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি)-এর বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধান অতিথির বক্তব্য ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে এ দিন। বিজিবির ইতিহাসে রেকর্ড তিন হাজার নবীন সদস্য দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার শপথ নিয়েছেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে একযোগে তিন হাজার রিক্রুট প্রশিক্ষণের এটি প্রথম উদাহরণ, যা বিজিটিসিঅ্যান্ডসি তথা বিজিবির জন্য একটিঐতিহাসিক মাইলফলক।

উপদেষ্টা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবীন সৈনিকদের শপথ গ্রহণ ও প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং বিজিটিসিঅ্যান্ডসির কমান্ড্যান্ট উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ শেষে উপদেষ্টা নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

তিনি বলেন, ২৩০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বাহিনী কালের পরিক্রমায় আজ একটি সুসংগঠিত, চৌকস, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার দেশপ্রেমিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে দেশের চার হাজার ৪২৭ কিমি দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষার মাধ্যমে দেশমাতৃকার অখণ্ডতা রক্ষা ও সীমান্তের নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি চোরাচালান রোধ, মাদক ও মানবপাচার রোধসহ যেকোনো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় বিজিবি অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে দেশবাসীর আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, ‘শৃঙ্খলা হচ্ছে সৈনিক জীবনের অলঙ্কার। আদেশ ও কর্তব্য পালনে যে কখনো পিছপা হয় না সেই প্রকৃত সৈনিক। সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনা একটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি।’ নবীন সৈনিকরা এসব গুণাবলির প্রতিফলন ঘটিয়ে বাহিনীর ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বিজিবি’র চারটি মূলনীতি ‘মনোবল, ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা’-এ উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত হয়ে বিজিবির ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুশৃঙ্খল ও সুচারুরূপে পালন করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় সদা জাগ্রত থাকতে নবীন সৈনিকদেরকে আহ্বান জানান।

তিনি বিজিবির নবীন সৈনিকদের প্রদর্শিত তেজোদীপ্ত কুচকাওয়াজের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন এবং তাদের কর্মজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অব্যাহত সাফল্য কামনা করেন। উপদেষ্টা ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে সব বিষয়ে সেরা নবীন সৈনিক হিসেবে বক্ষ নং-১৫৫ রিক্রুট আল ইমরান প্রথম স্থান অর্জন করায় তাকে অভিনন্দন জানান। এ ছাড়া শারীরিক উৎকর্ষতায় শপিকুল ইসলাম (২৭৬৯) ও লুবনা খাতুন (১৫১৫) এবং শ্রেষ্ঠ ফায়ারার হওয়ার জন্য শফিকুর রহমান তামিম (১৩৪৭) ও বক্ষ নং ও নাহিদা আক্তারকেও (১৫৩১) অভিনন্দন জানান তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, বিজিটিসিঅ্যান্ডসি বিগত ৪৪ বছর ধরে বিজিবির রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে গড়ে তুলছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭২টি ব্যাচকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ৭০০-এক হাজার জন হলেও ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে তিন হাজার ২৩ জন (পুরুষ দুই হাজার ৯৫০, মহিলা ৭৩) রিক্রুটকে মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সীমান্তে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি অবস্থান করছে। তাদের সাথে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ হলে দু-একটি গোলাবারুদ আমাদের সীমান্তের (ভেতর) চলে আসে। যেহেতু আমাদের সম্পর্ক মিয়ানমার সরকারের সাথে তাই আমরা সরকারকে প্রতিবাদ জানিয়েছি। আরাকান আর্মির সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।