১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটের তফসিল

Printed Edition

বিশেষ প্রতিনিধি

চলতি মাসের ৮ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যেই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কাক্সিক্ষত তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিমন (ইসি)। জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে এই তফসিল দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ বলেন, আমরা বিটিভিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাষণ রেকর্ড করার জন্য চিঠি দেবো। তিনি বলেন, আগের নির্বাচনগুলোর মতো সব কেন্দ্রে নির্বাচন সামগ্রী ও ব্যালট পেপার আগের রাতেই পৌঁছে যাবে।

গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় চার কমিশনার, ইসির সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ১০টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সভার আলোচ্য সূচিতে ছিল, আইন ও রীতির আলোকে তফসিলপূর্ব ও তফসিলপরবর্তী কার্যক্রম পর্যালোচনা, গণভোট আয়োজন ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির অগ্রগতি, মাঠ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ, সমন্বয় ও মতবিনিময়ের বিষয়াদি, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন আবেদন পদ্ধতি ও ঝঙচ নির্ধারণ, ২৯ নভেম্বরের মক ভোট থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার আলোকে কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, পার্সোনালাইজেশন সেন্টারের ৯টি মেশিন আইডিইএ প্রকল্পে হস্তান্তর ও বিএমটিএফের স্থগিত বিল পরিশোধ, অতিরিক্ত ১৪ লাখ স্মার্ট কার্ড পার্সোনালাইজেশন বাবদ বকেয়া পরিশোধ/ক্রয় প্যাকেজ এনসিএস ২৭ (স্মার্টকার্ড পার্সোনালাইজেশন ও ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ লেখা মুদ্রণ) সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত।

এ দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে হতে যাওয়া ‘ঐতিহাসিক’ গণভোট সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। এই দুই ভোট আয়োজন সফল করতে সংস্থাটি একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

তফসিলের নির্দিষ্ট দিন তারিখ বলা যাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ মানে চলতি সপ্তাহ। অর্থাৎ ৮ থেকে ১৫ ডিসেম্বর ধরে নিতে পারেন।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, চলতি সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার আগে রীতি অনুযায়ী পুরো কমিশন রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করবেন। এ ছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য রেকর্ড করার জন্য বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের কাছে আগামীকাল (আজ) পত্র প্রেরণ করা হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারের তালিকা প্রস্তুত করেছে। এই তালিকায় সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারা যুক্ত থাকবেন। তিনি বলেন, বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আপাতত রিজার্ভে রাখা হবে।

তফসিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তফসিলপূর্ব যেসব কার্যক্রম আছে এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সেগুলোর স্টক নেয়া হয়েছে। এগুলো সম্বন্ধে সবাই জানেন। যেমন- সংলাপ, আইন ও বিধির সংস্কার। ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ হয়ে গেছে। পোস্টাল ভোট কাজ চলমান।