ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শাস্তি ও বাড়ি ভাড়ার নীতিমালায় হাইকোর্টের রুল
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বিচারিক ইতিহাসে একই দিনে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রুল জারি করলেন হাইকোর্ট। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে করা মামলায় যুক্তিসঙ্গত শাস্তির বিধান প্রণয়নে নির্দেশ কেন দেয়া হবে না এবং রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বাড়ি ভাড়া নির্ধারণে নীতিমালা প্রণয়নে নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে পৃথক দু’টি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত।
গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় যুক্তিসঙ্গত শাস্তির বিধান প্রণয়নে নির্দেশ দিতে কেন বলা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো: গোলাম কিবরিয়া জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন। তিনি আদালতকে জানান, বাংলাদেশ পেনাল কোড ও নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইনে বর্তমানে এই অপরাধের জন্য দুই বছরের সাজার বিধান রাখা হয়েছে, যা অপ্রতুল। আইনজীবীর মতে, এই দুর্বল সাজার কারণে অপরাধীরা কটূক্তি করার সাহস পাচ্ছে। তাই রিটে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
সারা দেশে বাড়ি ভাড়া নির্ধারণে নীতিমালা চেয়ে রুল
একই দিনে অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশে বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ঢাকাসহ সারা দেশের সব সিটি করপোরেশনে বাড়ি ভাড়া নির্ধারণে নীতিমালা করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
এই রিটটি দায়ের করেন রাজধানীর আজিমপুরের বাসিন্দা ইমতিয়াজ উদ্দিন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রিটে শুধু নীতিমালা প্রণয়ন নয়, বরং বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত ১৯৯১ সালে প্রণীত আইন দ্রুত কার্যকরের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক মাসের অগ্রিম ভাড়া জামানত হিসাবে জমা নিয়ে বাড়ি দেয়ার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছিল।
রুল জারির মাধ্যমে এই দু’টি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের আইনি অবস্থান ও পদক্ষেপ জানতে চাওয়া হয়েছে। পরবর্তী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের আদালতের কাছে জবাব দাখিল করতে হবে।