সরকার নিরপে নির্বাচন করতে পারবে না : ড. দেবপ্রিয়

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার হয়তো নিরপেভাবে নির্বাচন আয়োজন করতে সম নাও হতে পারে। তিনি বলেন, সরকার সংসদীয় সংস্কার, সংলাপ এবং ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘আগামী সরকারের জন্য নির্বাচিত নীতি সুপারিশ ও প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচি’, যা এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আগামী সরকারের জন্য ১২টি নীতি বিবৃতি এবং প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচিও উপস্থাপন করা হয়।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, নতুন শক্তির কথা বলে সরকার একটি ক্ষুদ্র ও উগ্র গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। নাগরিকদের সুরা দিতে সরকারের ব্যর্থতার কারণে প্রশ্ন উঠেছে, তারা কি নিরপে নির্বাচনও পরিচালনা করতে পারবে। তিনি উল্লেখ করেন, পুরনো বন্দোবস্তের ধারক ও বাহক কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আবার সক্রিয় হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিবিদরা আত্মগোপনে গেলেও আমলাতন্ত্র দ্রুত ফিরে এসেছে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এই সুযোগ তৈরি করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারকে ইঙ্গিত করে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘ওনারা নতুন শক্তির কথা বলে শেষ বিচারে যেয়ে একটি ক্ষুদ্র ও উগ্র গোষ্ঠীর কাছে অনেক েেত্র জিম্মি হয়ে গেলেন। সে জন্য ওনারা আচরণও করতে পারলেন না। ওনারা নাগরিকদের সুরা দিতে পারলেন না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ওনারা কি নিরপেভাবে নির্বাচনটাও করতে পারবেন কি না।’

সংলাপে অংশীজনদের মতামত না নেয়াকে সংবাদ সম্মেলনে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এর দু’টো ফলাফল হলো। যারা নতুন বন্দোবস্তের কারিগর হতে চেয়েছিলেন, তারা পুরনো বন্দোবস্তের অংশ হয়ে গেলেন। তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ভেতরে ঢুকে গেলেন এবং ব্যয়বহুল নির্বাচনের অংশ হয়ে গেলেন। বড়জোর তারা ক্রাউড ফান্ডিং করে টাকা তুললেন, কিন্তু টাকার খরচ কমানোর েেত্র কিন্তু আর পারলেন না।

সমস্যার দ্বিতীয় ফলাফল হিসেবে কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী, যারা পুরনো বন্দোবস্তের ধারক ও বাহক ছিল, তাদের উত্থান হয়েছে বলে মন্তব্য করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলেন, রাজনীতিবিদরা আত্মগোপন করলেন, আর আমলারা ফিরে এলেন। কারণ, এই পুরনো বন্দোবস্তের সবচেয়ে বড় রক হলো আমলাতন্ত্র। ওই আমলাতন্ত্র তখন আবার ফিরে এলো। আর আমলাতন্ত্রকে ফিরে আসার সবচেয়ে বড় সুযোগ করে দিলো বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে আগামী সরকারের জন্য ১২টি নীতি বিবৃতি ও প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচি তুলে ধরেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং জাতীয় কর্মসূচি উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান। এতে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য আসিফ ইব্রাহিম, রাশেদা কে চৌধুরী, শাহীন আনাম, সুলতানা কামাল প্রমুখ।