নিহতদের পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

পিলখানা হত্যায় জড়িতদের নাম প্রকাশ ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

পিলখানায় নৃশংস হত্যার ঘটনা তদন্তে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনরা। তবে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্টদের সবার নাম প্রকাশ না হওয়ায় হতাশ হয়েছেন তারা। তাদের দাবি সম্পূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

গতকাল রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে ‘বিডিআর তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশে শহীদ পরিবারের মতপ্রকাশ’ শিরোনামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।

এ সময় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, তদন্তে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তারা নানামুখী সামাজিক ও অনলাইন হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার ফলে তারা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত সেনা কর্মকর্তা ও বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া, লে. কর্নেল লুৎফর রহমান খানের মেয়ে ডা: ফাবলিহা বুশরা, কর্নেল কুদরত ইলাহীর ছেলে আইনজীবী সাকিব রহমান, কর্নেল মুজিবুল হকের ছেলে মুহিব হক, মেজর কাজী মোসাদ্দেক হোসেনের মেয়ে কাজী নাজিয়া তাবাসসুম, কেন্দ্রীয় সুবেদার মেজর নুরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল আলম হান্নান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পিলখানায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় বাংলাদেশ রাইফেলস-বিডিআর (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি) সদর দফতরে সংঘটিত নৃশংস ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। ওই হত্যাকাণ্ড তদন্তে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন টানা ১১ মাস কাজ করে প্রতিবেদন তৈরি করে রোববার প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, শেখ হাসিনা ভারতের স্বার্থে আর নিজের ক্ষমতাধর স্বার্থে জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছে। মীর জাফরদের বিচার না করলে কিন্তু ভবিষ্যতে আরেকটা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সুযোগ রয়েছে। শহীদ পরিবারের পক্ষে ডা: ফাবলিহা বুশরা প্রতিবেদনটি প্রকাশে যেন বিলম্ব না করা হয় এবং এ বিষয়ে দ্রুত বিচার বিভাগীয় পদক্ষেপ নেয়া, সম্ভাব্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ সব আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবি জানান।

তিনি বলেন, ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের মৃত্যু শুধুই একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, এটি জাতিগত বিপর্যয়। করদাতাদের অর্থে সংগঠিত রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে সার্বভৌমত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করার যে ষড়যন্ত্র ঘটেছে, তার সত্য জানার অধিকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের আছে।