ইসরাইলকে সমর্থনের মূল্য চুকাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
আলজাজিরার বিশ্লেষণ
Printed Edition
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ইসরাইলকে সমর্থন দেবেন, তা অনেকের কাছেই প্রত্যাশিত ছিল। প্রথম মেয়াদে ইসরাইলের প্রতি তার অবস্থান ছিল স্পষ্ট ও দৃঢ়। তবে গাজায় চলমান যুদ্ধ ও ক্রমবর্ধমান প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে সেই সমর্থন এখন প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের নিঃশর্ত সমর্থন তার নিজস্ব রাজনৈতিক ঘাঁটিতেই অস্বস্তি তৈরি করেছে। বিশেষ করে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ম্যাগা আন্দোলনের একটি অংশ এতে ক্ষুব্ধ। সমালোচকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি যখন চাপের মুখে, তখন বিদেশে বিপুল অর্থ ব্যয় অগ্রহণযোগ্য। দেশে মূল্যস্ফীতি, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি অচলাবস্থা চলছে। এই সময়েও ইসরাইলের জন্য সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরাইলকে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দেয়। এই চুক্তি ১০ বছরের জন্য করা হয়েছিল। চুক্তিটি কার্যকর হয় ২০১৯ সালে। চলতি বছরের মার্চে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চার বিলিয়ন ডলারের জরুরি সামরিক সহায়তার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ইসরাইলের কাছে ১২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। ‘কস্ট অব ওয়ার প্রজেক্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলকে মোট ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা দেয়া হয়েছে। এই সহায়তা শুধু অর্থেই সীমাবদ্ধ নয়। জাতিসঙ্ঘে ইসরাইলবিরোধী প্রস্তাব আটকে দিচ্ছে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের মতো সংস্থার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ঘাঁটিতে। ম্যাগা আন্দোলনের প্রভাবশালী মুখ টাকার কার্লসন প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, সহিংসতাকে উসকে দেয়া ও শান্তি চাওয়ার মধ্যে প্রকৃত বিভাজন রয়েছে।
ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননও ইসরাইলের সাথে ‘বিশেষ সম্পর্ক’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে অপ্রয়োজনীয় সঙ্ঘাতে জড়ানোর অভিযোগ তোলেন। সমালোচনার তালিকায় রয়েছেন কংগ্রেসওম্যান মার্জোরি টেলর গ্রিনও। তিনি গাজায় ‘গণহত্যা, মানবিক সঙ্কট ও অনাহার’-এর কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। এর জবাবে ট্রাম্প তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দেন। তবে গ্রিন এখনো ম্যাগা সমর্থকদের একটি অংশের কাছে জনপ্রিয়। অনেকে মনে করেন, তিনি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।
জনমতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ইউগভ ও আইএমইউ পরিচালিত সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অনেক রিপাবলিকান ইসরাইলের সাথে সামরিক সহায়তা চুক্তি নবায়নের বিপক্ষে। ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সী রিপাবলিকানদের ৫৩ শতাংশ পুরো চুক্তি বাতিল করতে চান। ইভানজেলিক খ্রিষ্টানদের মধ্যেও সমর্থন কমছে। এ কারণে ইসরাইল সরকার নতুন প্রচারণা শুরু করেছে। তবু গাজা যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ পুরোপুরি থামেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন নির্বাচনে ইসরাইল ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হলেও অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ই মুখ্য হবে। তবে স্পষ্ট হচ্ছে, ইসরাইলকে সমর্থনের রাজনৈতিক মূল্য ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য ধীরে ধীরে বাড়ছে।