গভীর উৎকণ্ঠায় ইরানের নারী ফুটবলাররা
Printed Edition
ক্রীড়া ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ায় চলমান এএফসি নারী এশিয়ান কাপে অংশ নিয়ে গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন ইরানের নারী ফুটবল দলের সদস্যরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় দেশে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে চাপে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কোচ মারজিজেহ জাফারি।
গোল্ড কোস্টে আজ স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে ইরান। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে। এরই মধ্যে নিজ দেশে বোমাবর্ষণ ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার কারণে পরিবার-পরিজনের খোঁজ নিতে পারছেন না খেলোয়াড়রা।
অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমকে জাফারি বলেন, ‘এখানে প্রবাসী ইরানিরা আমাদের সমর্থন দিচ্ছেন, এতে আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু দেশের ভেতরে থাকা পরিবার ও প্রিয়জনদের নিয়ে আমাদের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। আমরা তাদের সাথে যোগাযোগে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।’
২১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড সারা দিদার আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘ইরানে যা ঘটছে তা নিয়ে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন ও দুঃখিত। আমাদের পরিবার ও প্রিয়জনদের জন্য খুব চিন্তায় আছি।’
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যানুযায়ী, গত শনিবার শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলায় দেশটিতে অন্তত ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন।
এশীয় ফুটবল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান দলকে তারা ‘পূর্ণ সমর্থন ও সহায়তা’ দিচ্ছে। হামলার সময়েই দলটি অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছায়। গণমাধ্যমের প্রশ্নে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান কোচ ও খেলোয়াড়রা। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীতও গায়নি ইরান দল।
সোমবারের ম্যাচে গ্যালারিতে থাকা একদল ইরানি সমর্থক লাল-সবুজ-সাদা জাতীয় পতাকা ও বিপ্লব-পূর্ব পতাকা উড়িয়ে দলকে সমর্থন জানান। দিদার বলেন, ‘স্টেডিয়ামে অনেক ইরানিকে দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হয়েছি। আশা করছি আগামীকালও দারুণ পরিবেশ থাকবে।’