স্টেডিয়ামে ভূমিকম্প এনেছিল নওরোজিয়ানরা

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক নিউ ইয়র্ক থেকে

হঠাৎ হঠাৎ কেঁপে উঠছিল নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সির ম্যাট লাইফ স্টেডিয়াম। ভয় হচ্ছিল ভূমিকম্প কি না- আসলে তা নয়। বিশ্বাস করুন বা নাই করুন তা হয়েছিল গ্যালারিতে উপস্থিত নরওয়ের দর্শকদের দল বেঁধে নাচানাচি করার কারণে। তাদের উল্লাসের ধরন হলো ঠিক নৌকার বৈঠা যেভাবে নানা টানা হয়। মুখে হু হু শব্দ উচ্চারণ করে এরপর সবাই মিলে নৌকা চালানোর মতো করে অঙ্গভঙ্গি করে। ‘আই’ গ্রুপে সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচের সময় তাদের এই স্টাইলের নাচানাচিতে বারবার কেঁপে উঠছিল ম্যাট লাইফের ৮০ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামেই হবে এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল।

আর্জেন্টনা, ব্রাজিল বা কলম্বিয়ার দর্শকদের মতোই খেলার সময় স্টেডিয়াম মাতিয়ে রাখেন নরওয়ের দর্শকরা। কখনো গান গেয়ে কখনো বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করে তাদের উল্লাস। সেনেগালের বিপক্ষে এই ম্যাচ দেখার জন্য হাজার হাজার নওরোজিয়ান দর্শক এসেছিলেন ম্যাট লাইফ স্টেডিয়ামে। কিছু এসেছিলেন নিউ ইয়র্কের প্যানস্টেশন থেকে ট্রেনে। অন্যরা ভিন্ন স্থান থেকে। ট্রেন থেকে নেমেই তারা মিছিল করতে করতে আসতে থাকে স্টেডিয়ামে। মাথায় ভাইকিং হেলমেট। যে হেলমেটের দুই দিকে দু’টি গরুর শিং আকৃতির লম্বা বস্তু। স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেই তাদের উল্লাস। তাদের এই উল্লাসের পূর্ণতা এনে দিয়েছে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়। যা তাদের ১৯৯৮ সালের পর ফের নিয়ে গেছে নকআউটে।

খেলা শেষে নরওয়ের ফুটবলাররাও মাঠে বসে দর্শকদের এই উল্লাসের সাথী হয়েছেন। পোস্টের সামনে তারা গোল হয়ে বসে পড়েন। এরপর দর্শকদের থেকে বিশাল দু’টি ঢাক ও ঢোল নেয়া হলো। পরবর্তীতে ঢোলের শব্দের তালে তালে মুখে হু হু শব্দ করে বৈঠা চালাত। সবাই দুই হাত সামনে দিয়ে বসে থাকে। এরপর ঢোলের শব্দ কানে এলে হু হু করে দ্ইু হাত সামনে পেছনে করে বৈঠা টানার ভঙ্গি। বেশ কিছুক্ষণ চলে এই বৈঠা টানা। তখনই কেঁপে উঠে গালারি।