স্থায়ী জলাবদ্ধতায় ডুমুরিয়ার মধুগ্রাম বিল
বোরো মৌসুমে আবার অনিশ্চিত ধান চাষ, লোকসানে মাছচাষিরা
Printed Edition
মো. আনোয়ার হোসেন আকুঞ্জী ডুমুরিয়া (খুলনা)
স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মধুগ্রাম বিলে এবারো বোরো মৌসুমে ধানচাষ কার্যত বন্ধ রয়েছে। অতিবৃষ্টিতে মাছের ঘের ভেসে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাছচাষিরাও। এতে বিলসংলগ্ন অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মধুগ্রাম, মিকশিমিল, রুদাঘরা, ছয়বাড়িয়া, ধামালিয়া, কোমরাইল, রঘুনাথপুর, দেড়লী, আন্দুলিয়া ও শাহপুর- এই ১০ গ্রামের মানুষ ২ হাজার ২০০ একর আয়তনের মধুগ্রাম বিলের ওপর নির্ভরশীল। বিলটি উপজেলার সবচেয়ে নিচু এলাকা হওয়ায় বছরের বেশির ভাগ সময় পানিতে তলিয়ে থাকে। ধান ও মাছ চাষই এখানকার প্রধান আয়ের উৎস।
রুদাঘরা গ্রামের বাসিন্দা সামরুল ইসলাম বলেন, উঁচু কিছু জমিতে সেচ পাম্প দিয়ে হয়তো ৫ শতাংশ জমিতে ধান রোপণ করা যাবে। কিন্তু নিচু জমিতে এবারো ধান চাষ করা সম্ভব নয়।
আন্দুলিয়া গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী এ এম কামরুজ্জামান জানান, তিনি ২৫ বিঘা জমিতে ধান ও মাছ চাষ করতেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে জলাবদ্ধতায় ধানচাষ ব্যাহত হচ্ছে। চলতি বছর অতি বৃষ্টিতে ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ায় মূল খরচের অর্ধেকও উঠবে না বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, বিলের পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ ছিল হামকুড়া নদী ও হড়হড়িয়া খাল। হামকুড়া নদী এখন প্রায় বিলীন। হড়হড়িয়া খাল দিয়ে সীমিত পরিমাণ পানি বের হলেও দ্রুত তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শৈলমারী স্লুুইস গেটের মাধ্যমে কিছু পানি নিষ্কাশন সম্ভব হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। খালটি পুনঃখনন করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে মনে করেন তারা।
উত্তর ডুমুরিয়া বিল সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক জি এম আমান উল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা নিরসনে আন্দোলন করছি। মাঝেমধ্যে খালের পাটা ও শেওলা পরিষ্কার করলে সাময়িক সুফল মেলে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয় না। তিনি জানান, কোমরাইল, ধামালিয়া, রুদাঘরা ও মিকশিমিল এলাকার অল্প কিছু উঁচু জমিতে সীমিত আকারে ধান চাষ হতে পারে। তবে বিলের অধিকাংশ জমিই অনাবাদি থাকবে। তার মতে, হামকুড়া নদী পুনঃখনন করে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিকপ্রবাহ নিশ্চিত করা না গেলে মধুগ্রাম বিলের স্থায়ী জলাবদ্ধতার সমাধান হবে না। স্থানীয় চাষিরা দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন।