কঠিন হচ্ছে পাবলিক পরীক্ষা আইনেও আসছে সংশোধনী
Printed Edition
শাহেদ মতিউর রহমান
পরিবর্তন আসছে পাবলিক পরীক্ষার নিয়ম কানুনে। অভিযুক্ত পরীক্ষার্থী এবং কেন্দ্র পরিদর্শকদের শাস্তিতেও আনা হচ্ছে নতুন বিধান। আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম এবং কেন্দ্র ও এর বাইরে শৃঙ্খলা রক্ষায়ও কঠোর হচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া নকল প্রতিরোধে ১৯৮০ সালের আইনের কয়েকটি ধারা যুক্ত করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে নকল প্রতিরোধের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ দিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, পরীা চলাকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং পর্যবেক ছাড়া পরীা কেন্দ্রের ভিতরে অন্য কোনো ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন না। এ ছাড়া পরীা শুরুর পর পরই কেন্দ্রের টয়লেটগুলো তল্লাশি এবং কোনো ধরনের নকলের সামগ্রী পাওয়া গেলে তা ফেলে দিতে হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এরই মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিচালনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার নকল ও অনিয়ম প্রতিরোধে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীা নিয়ে জরুরি নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। আর দেশের সব কেন্দ্র সচিবদের এই ৩১ দফা নির্দেশনা মানতে হবে।
আইনের ধারা সংশোধন/পরিবর্তন : পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত দেশে বিদ্যমান ১৮৮০ সালের যে আইন ও বিধিবিধান রয়েছে সেখানে বেশ কিছু পরিবর্তন ও সংশোধনী আনা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন নিজেই জানিয়েছেন, বিদ্যমান আইনে পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের ধারায় ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে যেসব অপরাধ সংঘটিত করা যায় সেসব বিষয় আগের আইনে নেই। তাই এখন কিছু ধারা যুক্ত করে এবং শাস্তির বিধান যুক্ত করে আইনটিকে আপডেট করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভুয়া পরীক্ষার্থী, প্রশ্নফাঁস ম্যানুয়াল কিংবা ফেসবুকে, গুজব, প্রবেশপত্র পরিবর্তন, ভুয়া মার্কশিট, নকলে সহযোগিতা এসব বিষয়ে নতুন বিধিবিধানও যুক্ত করা হচ্ছে।
পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত নির্দেশনা : শিক্ষা বোর্ডগুলোর দেয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীা শুরুর ৩ দিন আগে ট্রেজারিতে, থানা লকারের ট্রাংকে রতি প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের সাথে প্রশ্নপত্রের বিবরণী তালিকা ঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাইকালে সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কেন্দ্রসচিব এবং পরীা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা অবশ্যই উপস্থিত থাকবেন। প্রশ্নপত্রের ২ সেট করে সৃজনশীল এবং বহুনির্বাচনী সেট, পরীার তারিখ অনুসারে সেটভিত্তিক আলাদা করে সিকিউরিটি খামে প্যাকেট করতে হবে। এ ছাড়া প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাই-এর দিনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তারিখ ভিত্তিক প্রশ্নপত্রের প্যাকেট সাজিয়ে সিকিউরিটি খামের গাম লাগিয়ে এবং কার্টুন টেপে যথাযথভাবে মুড়িয়ে নিতে হবে এবং সিকিউরিটি খামের ওপর পরীার তারিখ, বিষয় কোড ও সেট কোড অবশ্যই লিখতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ত্রুটি পরিলতি হলে তা কেন্দ্রসচিবের দায়িত্বে অবহেলা বলে গণ্য হবে। ট্রেজারি হতে পরীার দিনগুলোতে ট্রেজারি অফিসারের কাছ থেকে ওই দিনের প্রশ্নপত্রের সিকিউরিটি খাম (সৃজনশীল (ঈছ) ২ সেট এবং বহুনির্বাচনী (গঈছ) ১ সেট) গ্রহণ করতে হবে। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে থানা/ট্রেজারি হতে ট্যাগ অফিসার এবং পুলিশ প্রহরাসহ প্রশ্নপত্রের প্যাকেট (ঝবপঁৎরঃু খাম) কেন্দ্রে আনতে হবে।
মোবাইল ফোনে সেট কোডের এসএমএস পাওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার, পুলিশ অফিসারকে প্রদর্শনের পর সেট কোড নিশ্চিত হয়ে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলতে হবে এবং অন্য সেটের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট টেবিল থেকে সরিয়ে ট্রাংকজাত করতে হবে। অব্যবহৃত সেটের প্রশ্নপত্রের খাম অত অবস্থায় বোর্ডে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সেট কোডের পরিবর্তে অন্য কোনো সেট কোডের প্রশ্নপত্রে পরীা নিলে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেন্দসচিব ব্যতীত অন্য কেউ মোবাইল ফোন, ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছবি তোলা যায় না এমন মোবাইল ফোন কেন্দ্রসচিব ব্যবহার করতে পারবেন।
পরীক্ষা কন্দ্রের নির্দেশনা : এবারই প্রথম একজন পরীক্ষার জন্য কতটুকু জায়গা বসার জন্য বরাদ্দ থাকবে তা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে প্রতি ২০ জন পরীার্থীর জন্য একজন ক পরিদর্শক পরীা কে দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিটি কে কমপে ২ জন করে দায়িত্ব পালন করবেন। ৫ ফুট, ৬ ফুট লম্বা প্রতি বেঞ্চে ২ জন এবং ৪ ফুট লম্বা বেঞ্চে একজনের আসন ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই এর ব্যতিক্রম করা যাবে না। পরীার্থীর হাজিরা শিটে উপস্থিতির স্বার নিতে হবে। কোনো পরীার্থী অনুপস্থিত থাকলে নির্দিষ্ট তারিখ ও বিষয় লাল কালি দ্বারা অনুপস্থিত লিখে দিতে হবে। পরীা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে পরীার্থীকে পরীা কে অবশ্যই প্রবেশ করানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ সময়ের পর কোনো পরীার্থী আসলে কেন্দ্রসচিব বিশেষ বিবেচনায় রেজিস্টার খাতায় রোল নং ও অন্যান্য তথ্য লিপিবদ্ধ করে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারবেন। পরীা শেষে বোর্ডে রেজিস্টার খাতাটি জমা দিতে হবে।
কেন্দ্রের বাইরের নিরাপত্তা নির্দেশনা : পরীা শুরুর পূর্বে পরীা কেন্দ্রের বাইরে পরীার্থী, অভিভাবক বা অন্য কেউ যাতে জটলা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, প্রয়োজনে হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করতে হবে, সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। বোর্ড থেকে সরবরাহকৃত নকল প্রতিরোধমূলক পোস্টার পরীা কেন্দ্রের প্রবেশ পথের দৃশ্যমান স্থানে লাগাতে হবে। কেন্দ্রসচিবরা তার কেন্দ্রের আওতাভুক্ত বিদ্যালয়ের প্রবেশপত্র ঢাকা শিা বোর্ড থেকে গ্রহণ করবেন এবং পরীা শুরুর অন্তত ১০ দিন পূর্বে প্রবেশপত্র প্রতিটি বিদ্যালয় প্রধানের নিকট হস্তান্তর নিশ্চিত করবেন।
উত্তরপত্র সংক্রান্ত নির্দেশনা : নির্দিষ্ট তারিখে পরীার সময়সূচি মোতাবেক পরীা নিতে হবে। উত্তরপত্রের প্যাকেট বোর্ডের পরীা শাখার স্ক্রিপ্ট রুমে বস্তায় সিলগালাকৃত অবস্থায় পৌঁছাতে হবে। পরীার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহন কাজে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে। পুরাতন এবং নতুন সিলেবাস অনুসারে ৫০টি করে উত্তরপত্র করোগেটেড শিটে প্যাকেট করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নতুন এবং পুরাতন সিলেবাসের উত্তরপত্র একত্রে প্যাকেট করা যাবে না। উত্তরপত্রের প্যাকেটের গায়ে কোনো চিহ্ন বা অতিরিক্ত কিছু লেখা থাকলে তার জন্য কেন্দ্রসচিব দায়ী থাকবেন। প্রতিটি বিষয়ের উত্তরপত্রের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্যাকেট করতে হবে। ইংরেজি ভার্সনের পরীার্থীদের অবশ্যই ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে পরীা নিতে হবে। ইংরেজি ভার্সনের পরীার্থীদের উত্তরপত্রের প্যাকেট আলাদা হবে।
চিঠিতে আরো নির্দেশনা দেয়া হয়, পরীার্থীর প্রবেশপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে তা অবশ্যই প্রবেশপত্র গ্রহণের ৫ কর্মদিবসের মধ্যে শিা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখা হতে সংশোধন করে নিতে হবে। পরীা চলাকালীন বিদ্যালয়ের সব কাস বন্ধ রাখতে হবে, তবে পরীা শেষ হওয়ার পরে এবং সময় সূচিতে যেদিন পরীা নেই সে দিন নিয়মিত শ্রেণী কার্যক্রম চালু রাখা যাবে। পরীার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং প্রবেশপত্রে উল্লেখিত বিষয়ের বাহিরে অন্য কোনো বিষয়ের পরীা গ্রহণ করা যাবে না। এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে সে জন্য কেন্দ্র সচিব দায়ী থাকবেন।