পোস্টাল ব্যালট নিয়ে ছাড় নয়, ভাববেন না ঘুমাচ্ছি : ইসি আবুল ফজল সানাউল্লাহ
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ বলেন, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। কেউ যেন না ভাবে নির্বাচন কমিশন ঘুমাচ্ছে। তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালট পেপার দেশের বাইরে গেছে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪টি। ভুল ঠিকানার কারণে ফেরত এসেছে ৪ হাজার ৫২১টি। মালয়েশিয়া ও ইতালি থেকে বেশি। প্রতীক বরাদ্দের পর দেশের ভেতর পোস্টাল ভোটিং কার্যক্রম শুরু হবে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে গতকাল সন্ধ্যায় এক ব্রিফিংয়ে আবুল ফজল সানাউল্লাহ এসব কথা জানান। এ সময় ইসি সচিব ছিলেন।
ইসি আবুল ফজল সানাউল্লাহ বলেন, পোস্টাল ব্যালটের বর্তমান স্ট্যাটিস্টিকস যদি বলি, বাংলাদেশ পোস্ট অফিস থেকে প্রবাসী ভোটারদের কাছে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। একটি ব্যালটও আমাদের কাছে পড়ে নাই, সবগুলোই পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, এর মধ্যে পথে আছে প্রায় ৭ লাখ ৫৯ হাজারের মতো ব্যালট। যে দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে, সেখানে পৌঁছেছে প্রায় ৭ লাখ ৭ হাজার ৫০০টি ব্যালট। এর মধ্যে ভোটারদের হাতে পৌঁছেছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৭৩টি। এই সংখ্যাটা হয়তো এখন আরো একটু বেড়েছে। যারা হাতে পেয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করেছেন, সেই হিসাব অনুযায়ী বলছি।
তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে কিছু ব্যালট ঠিকানা ভুল লেখার কারণে ডেলিভারি না হয়ে ফেরত আসছে। ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৫২১টি ব্যালট ফেরত এসেছে। এগুলোর বেশির ভাগই এসেছে মালয়েশিয়া থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এসেছে ইতালি থেকে। তিনি বলেন, আমরা মিশনগুলোকে বলেছি, যাতে এই সংখ্যাটা কমানো যায় কি না। সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে। বাস্তবতা হচ্ছে, বিশেষ করে মিডল ইস্ট এবং মালয়েশিয়ায় অনেক প্রবাসী খুব স্বল্প পরিসরে থাকেন। অনেক েেত্র তাদের নিজস্ব কোনো অ্যাড্রেস থাকে না। ফলে একাধিক ভোটার একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন।
আবুল ফজল বলেন, এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ভিডিও কিপ এসেছে, যেগুলো নির্বাচন কমিশন খুব সিরিয়াসলি দেখছে। আমরা সব অ্যাম্বাসির সাথে আজকে কথা বলেছি। তিনটি জায়গার ভিডিও কিপ আমরা পেয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো ব্যত্যয় হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, বাহরাইনের একটি ঘটনায়, ১১ তারিখে একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। সেখানে পোস্টম্যান ওই এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশীদের এক জায়গায় ব্যালট রেখে দিয়েছিল। পরে সর্বোচ্চ সংখ্যক ব্যালট আবার দূতাবাসে ফেরত এনে পোস্ট অফিসকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে- ইন্ডিভিজুয়াল ভোটারের কাছে পৌঁছাতে।
তিনি বলেন, এখন বাহরাইন পোস্ট সিপিআর না দেখালে কাউকে ব্যালট দেবে না। প্রয়োজনে ব্যালট আনডেলিভার্ড হয়ে ফেরত এলেও কিছু করার নেই। আমরা ইলেকটোরাল ইন্টেগ্রিটি নষ্ট হতে দিতে পারি না। তবে সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেগুলো ছড়াচ্ছে, সেগুলো এখনো ভেরিফাই করা যায়নি। আমাদের মিসইনফরমেশন সেল কাজ করছে। আর ওমানে একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। ওখানে বাল্ক ডিস্ট্রিবিউশন হয়েছিল। পরে ইডি কার্ড বা পাসপোর্ট ছাড়া ব্যালট না দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এখন এমনকি স্বামী-স্ত্রীর কাছেও ব্যালট দেয়া হচ্ছে না। কুয়েতে একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। সেখানে অনেক বাংলাদেশী পোস্ট অফিসে কাজ করেন। বাছাইয়ের সময় উৎসাহবশত ভিডিও করা হয়েছে। এগুলো ভুলভাবে ছড়ানো হচ্ছে। আবুধাবি, দুবাই, কাতার, মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশে কোনো সমস্যা হয়নি।
ইসি বলেন, আমরা সবাইকে স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি, কোনো অবস্থাতেই ইলেকটোরাল ইন্টেগ্রিটি নষ্ট করা যাবে না। যদি কেউ সামান্যতম অনিয়মে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল চার্জ দেয়া হবে, এনআইডি ব্লক করা হবে এবং প্রয়োজনে তাকে ওই দেশ থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি বলেন, আমরা প্রথমবার এই এক্সারসাইজ করছি। সীমাবদ্ধতা জানি, বাস্তবতা জানি, ডিজিটাল লিটারেসির হার জানি, প্রবাসীদের পরিবেশ জানি। সব জেনেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। কেউ যেন ব্যক্তিগত বা হীনস্বার্থে এই উদ্যোগ তিগ্রস্ত না করে। এই আহ্বান সবার কাছে রাখছি।