কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথমবার নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকা
Printed Edition
ক্রীড়া ডেস্ক
৬৯ শতাংশ বল পজিশন, ৬৭৪টি পাসের মধ্যে ৯১ শতাংশই সঠিক। গোলপোস্টে নেয়া ৭ শটের দু’টি লক্ষ্যে থাকলেও গোলের খেলা ফুটবলে সেটিই পেল না দক্ষিণ কোরিয়া। নক আউট নিশ্চিত করতে স্রেফ ড্র করলেই চলত এশিয়ার জায়ান্টদের। ম্যাচে ফেবারিট হিসেবেই শুরু করেছিল তারা। তলানিতে থেকে গ্রুপের শেষ রাউন্ড শুরু করা দণি আফ্রিকা উপহার দিলো দারুণ চমক। ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে মন্টেরেই স্টেডিয়ামে ১-০ গোলের স্মরণীয় জয় বাফানা বাফানাদের। এতে এশিয়ার দলটির আশা মাড়িয়ে স্মরণীয় সাফল্যের স্বাদ পেল আফ্রিকার দলটি। দণি কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথমবার নকআউটে উঠে ইতিহাস সৃষ্টি করল দণি আফ্রিকা। ৬৩ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়া গোলটি করেন থাপেলো মাসেকো।
মেক্সিকোর মন্টেরে স্টেডিয়ামে গোলের পর বাঁধনহারা উল্লাসের প্রথম পর্ব মঞ্চস্থ হয়েছে। শেষ বাঁশি বাজার পর দেখা গেল দ্বিতীয় পর্ব। সেখানে মূল আকর্ষণ আফ্রিকান নাচ। দণি আফ্রিকার ফুটবল ইতিহাসের সেরা দিনটিতে উল্লাসের সাথে ঐতিহ্য তো মিশে থাকবেই! হলুদের উৎসবের ঠিক উল্টো চিত্র তখন লাল জার্সির মানুষগুলোর। কেউ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছেন, কারো চোখে পানি, কেউ চেষ্টা করছেন কান্না আটকানোর, মূর্তির মতো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে কেউ কেউ। নকআউটের দুয়ারে দাঁড়িয়ে ম্যাচ শুরু করেছিল দণি কোরিয়া। কিন্তু সেই দুয়ার তারা খুলতে পারল না।
দণি আফ্রিকা একাদশ সাজায় দলের সবচেয়ে বড় তারকা ও অধিনায়ক সন হিউং-মিনকে বাইরে রেখে। টানা ১২ ম্যাচ পর শুরুর একাদশে জায়গা পেলেন না কিনি। আগের দুই ম্যাচেই অবশ্য বেশ বিবর্ণ ছিলেন ৩৩ বছর বয়সী তারকা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তাকে মাঠে নামান কোচ। তবে খুব বেশি প্রভাব রাখতে পারেননি। ম্যাচের শুরুতে যদিও দণি আফ্রিকাকে কাঁপিয়ে দেয় দণি কোরিয়া। বল ধরে রেখে দাপটে শুরু করে তারা। দ্বিতীয় মিনিটেই কর্নার থেকে ফাঁকায় পেয়ে কিম মিন-জে’র হেড চলে যাই বাইরে।
দণি আফ্রিকা ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে এবং ১৯ মিনিটে প্রায় গোল করেই ফেলেছিল। থ্রু বল ধরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যান মাসেকো, কিন্তু লি গি-হিউক শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত ট্যাকল করে তা রুখে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে মাসেকো এক দফায় বল নিয়ে দারুণভাবে বক্সে ঢুকে শট নিলেও তা ব্লকড হয় রণ দেয়ালে। একটু পর আর তাকে আটকানো যায়নি। বক্সের ভেতর বল পেয়ে সামনের ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক দিয়ে জোরাল শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। আগে তিন দফায় বিশ্বকাপ খেলেছে দণি আফ্রিকা। স্বাগতিকও ছিল ২০১০ আসরে। কোনোবারই গ্রুপ পর্ব উতরাতে পারেনি তারা। এবার ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
একই সময়ে গ্রুপের অন্য ম্যাচে চেক রিপাবলিককে ৩-০ গোলে হারিয়ে শতভাগ সাফল্য ধরে রেখেছে আগেই গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করা মেক্সিকো। আর এতে এই গ্রুপ থেকে বিদায় চেকিয়াদের। মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৫৬ মিনিটে হুট করেই চমকপ্রদ এক গোল করেন মাতেও চাভেজ। মেক্সিকোর সমর্থনে ঠাসা গ্যালারির গর্জনে প্রকম্পিত তখন চারপাশ। পাঁচ মিনিট পর দ্বিতীয় গোল জুলিয়ান কুইনোনেস। একদম শেষ সময়ে গোল করে জয়কে পূর্ণতা দিলেন আলভারো ফিডালগো।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সুদীর্ঘ পথচলায় প্রথমবার গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচই জিতল মেক্সিকো। নকআউট পর্বেও নিজেদের মাঠে খেলার সুযোগ পাবে তারা, যে ম্যাচে তাদের প্রতিপ গ্রুপ সি, ই, এফ, এইচ বা আই থেকে তৃতীয় স্থানে থাকা দল।