বাজেটে শ্রমিকদের ‘প্রত্যাশা পূরণ’ না হওয়ায় স্কপের ক্ষোভ ও ৩ দফা দাবি

Printed Edition

ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনটি বলেছে, দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হলেও এতে শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, রেশন, আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে প্রয়োজনীয় কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। একই সাথে আগামী ২৯ জুনের মধ্যে বাজেটে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় ৩ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে।

স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সমন্বয়ক এ এ এম ফয়েজ হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘দেশের ৭ কোটি ৬০ লাখ শ্রমিকের শ্রমে-ঘামে জিডিপি এবং মাথাপিছু আয় বাড়লেও শ্রমিকের প্রকৃত আয় কমছে। সরকারি মুদ্রাস্ফীতির হারের চেয়ে শ্রমিকের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার কম। ফলে বর্তমান বাজারদরের সাথে শ্রমিকরা কোনোভাবেই টিকে থাকতে পারছে না। অথচ বাজেটে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সবচেয়ে কম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’

সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে রেশনব্যবস্থা চালু, শিল্পাঞ্চলভিত্তিক বিশেষায়িত হাসপাতাল, শিশুদের জন্য দিবাযতœ কেন্দ্র ও স্কুল এবং নারী শ্রমিকদের জন্য ডরমিটরি নির্মাণের জোর দাবি জানানো হয়।

প্রবাসী শ্রমিকদের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট ও প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার কারণে বাংলাদেশী শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু বাজেটে তাদের প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন কিংবা বিদেশে নির্যাতিত-প্রতারিত শ্রমিকদের সুরক্ষায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা বরাদ্দ রাখা হয়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

জাতীয় সম্পদ রক্ষার দাবি তুলে নেতারা বলেন, দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক ‘নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ও ‘পতেঙ্গা টার্মিনাল’ বিদেশী কোম্পানি ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডে’র কাছে ইজারা দেয়ার ‘অপচেষ্টা’ চলছে। বক্তারা সাফ জানিয়ে দেন, দেশের বন্দর ও শিল্প-কারখানা দেশীয় মালিকানায় রেখে এর অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। কোনো অবস্থাতেই জাতীয় সম্পদ বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়া যাবে না। স্কপের উত্থাপিত ৩ দফা দাবি হলো- শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে রেশন, আবাসন, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানসহ সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। প্রবাসী শ্রমিকদের প্রবাস গমন এবং ফিরে আসার পর সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের শিল্প-কারখানা ও অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়াতে হবে; বিদেশীদের হাতে জাতীয় সম্পদ ইজারা দেয়া বন্ধ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তি।