তিন জেলায় ৯৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি

Printed Edition
Back------------4
মেহেরপুরের গাংনী শেওড়াতলা সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা শূন্য রেখায় বাঁশঝাড়ে আশ্রয় নেন : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশের চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও নওগাঁ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একের পর এক অবৈধ ‘পুশইন’ বা জোরপূর্বক বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির কড়া নজরদারি ও স্থানীয় সীমান্তবাসীর তীব্র প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ একাধিক গ্রুপে আসা অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

চলতি বছরের ২৫ জুন পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুধু চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়েই বিএসএফ অন্তত ৯ বার পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এসব দফায় আনুমানিক ৭৮ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক ও বিচক্ষণ পদক্ষেপের কারণে প্রতিটি অপচেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হাসান জানান, পুশইন প্রতিরোধে সীমান্তে অতিরিক্ত টহল, বিশেষ নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনসাধারণের মধ্যে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অনুরূপভাবে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার শেওড়াতলা সীমান্ত দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে সাতজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। স্থানীয় সংবাদদাতার পাঠানো বিবরণ অনুযায়ী, ভারতের নদীয়া জেলার ব্রজনাথপুর গ্রামের দিক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১৪২-এর কাছে ছয়জন পুরুষ ও একজন নারীকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কড়া প্রতিবাদ জানান। এ সময় স্থানীয় গ্রামবাসীরাও পুশইনের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে অবস্থান নিলে বিএসএফ তাদের নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

এ দিকে নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে বিএসএফের বাধার মুখে পড়া ৯ জন ব্যক্তি দুই দেশের সীমান্তরেখায় (নো ম্যান্স ল্যান্ড) অবস্থান করছেন। নওগাঁ-১৬ বিজিবি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ভোর ৪টার দিকে সাপাহার আদালতলা সীমান্ত চৌকি (বিওপি) এলাকার সীমান্ত পিলার ২৪৪/এমপি দিয়ে ভারতের ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও তিনজন শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত তাদের অনুপ্রবেশ ব্যর্থ করে দেয়।

নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না এবং শূন্য রেখায় থাকা ব্যক্তিদের ভারতীয় ভূখণ্ডে পাঠানোর (পুশ ব্যাক) কূটনৈতিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর আগে গত ৫ ও ৮ জুন নওগাঁর পোরশা ও সাপাহার সীমান্ত দিয়ে আরো ৪০ জন ব্যক্তিকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল বিএসএফ, যা বিজিবি ও স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থানের কারণে ব্যর্থ হয়।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, এদিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দেবলছড়া ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে ছয় নারী ও এক শিশুকে বাংলাদেশে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার সীমান্তের বকশিটিলা এলাকা দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হয়। ভুক্তভোগী নারীরা বাংলাদেশী নাগরিক। তাদের বাড়ি ঢাকার সাভার এলাকায় বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগী নারীরা জানিয়েছেন, তারা ভারতের একটি কারাগারে ২৫ দিন পর্যন্ত বন্দী ছিলেন। ভোররাতে বিএসএফ সদস্যরা তাদের চোখ বেঁধে জোরপূর্বক সীমান্তরেখা কাঁটাতার পার করে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়।

আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়াজ মোর্শেদ রাজু জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার আগেই স্থানীয় লোকজন তাদের ছেড়ে দেয়। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে পুশইনের শিকার নারীরা বাংলাদেশী এবং তাদের বাড়ি ঢাকার সাভার এলাকায়। কমলগঞ্জ থানার ওসি মো: কমর উদ্দিন জানান, শিশুসহ সাতজন বাংলাদেশে প্রবেশের খবর ইউপি সদস্য আবুল হোসেনের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি।

এদিকে পুশইনের খবর পেয়ে সীমান্ত এলাকায় অভিযানে নামে বিজিবি। শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বললেন, খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের টিম ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়রা বিজিবিকে না জানিয়েই তাদের ছেড়ে দেয়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।