শালিখায় পাউবোর নদীখনন আতঙ্কে অর্ধশত ভূমিহীন পরিবার
Printed Edition
শালিখা (মাগুরা) সংবাদদাতা
মাগুরার শালিখা উপজেলার কাদিরপাড়া গ্রামের চিত্রা নদীর চরাঞ্চলের প্রায় অর্ধশত ভূমিহীন পরিবার চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নদী সংস্কার ও খনন কার্যক্রমের নোটিশ এবং মাইকিংয়ের পর এসব পরিবার আশঙ্কায় রয়েছে, যে জমিতে তারা দীর্ঘ দিন ধরে চাষাবাদ করে আসছে, সেটি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে যেকোনো সময়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নদীর সংলগ্ন অকেজো চরাঞ্চলের জায়গা ধান চাষের জন্য ১৯৮৮ সালে আরএস রেকর্ড অনুযায়ী ভূমিহীন পরিবারগুলোকে ৯৯ বছরের বন্দোবস্ত দেয় সরকার। এর পর থেকে ওই জমিতেই কৃষিকাজ করে চলছে তাদের জীবিকানির্বাহ। তবে সম্প্রতি পাউবো কর্তৃপক্ষ নদী খননের উদ্যোগ নেয়ায় বন্দোবস্তকৃত এই জমি হারানোর আতঙ্কে রয়েছে পরিবারের নারী, পুরুষ, শিশু ও বয়স্করা।
ভূমিহীন কৃষক দাউদ বিশ্বাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এই জায়গাটুকুই আমাদের বেঁচে থাকার ভরসা। যদি নদী খননের নামে পাউবো জায়গা নিয়ে নেয়, তাহলে আমরা কোথায় যাবো? খাওয়াব কী?’ তার মতো আরো বহু পরিবার একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাউবো যে স্থানে খননকাজ শুরু করতে যাচ্ছে সেখানে বহু বছর ধরে বসবাস ও কৃষিকাজ করছেন ভূমিহীন মানুষ। অথচ তাদের পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং এসকেভেটর দিয়ে চরাঞ্চলে মাটি কাটা ও ভরাটের প্রস্তুতি নেয়ায় আতঙ্ক আরো বেড়েছে।
কাদিরপাড়ার সচেতন নাগরিক মধু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘চিত্রা, ফটকী, ব্যাঙ নদী, কানুদার খালসহ বিভিন্ন স্থানে পাউবোর অসংখ্য অকেজো জমি পড়ে আছে, যেখানে কোনো খনন বা উচ্ছেদ অভিযান হয় না। কিন্তু গরিব মানুষের বন্দোবস্তকৃত এই জমির ওপরই কেন এমন কঠোরতা?’ তিনি আরো বলেন, সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী জমি নেয়ার আগে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা; কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না।
ভূমিহীন পরিবারগুলো ইতোমধ্যে নদীখনন স্থগিতের আবেদন উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি। যে কারণে প্রতিদিনই নতুন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বনি আমিন বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা চাইলে সরাসরি আমার সাথে দেখা করতে পারেন। আমি বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীলদের সাথে আলোচনা করব।’
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ দিলে মাগুরা জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ভূমিহীন পরিবারগুলো বলছে, নদীখনন তাদের বিরোধিতা নয়; কিন্তু জীবিকার একমাত্র অবলম্বন জমিটি রক্ষার নিশ্চয়তা না পেলে তারা মানবিক বিপর্যয়ে পড়বে।